নিউজ ডেস্ক : জেলা পরিষদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- এ মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় সরকার সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আজ রবিবার বিচারপতি রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর দ্বৈত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। পরোক্ষ ভোটে জেলা পরিষদের নির্বাচনের বিষয়ে ২০০০ সালে দায়ের করা একটি রিট ও সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দের দায়ের করা অপর একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এ রুল জারি করেন। তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর কোনো স্থগিতাদেশ দেননি আদালত।
গত ২০ নভেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৮ ডিসেম্বর পার্বত্য তিন জেলা বাদে বাকি ৬১ জেলায় জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আইন অনুযায়ী, প্রতিটি জেলায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিদের ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নির্বাচিত হবেন। প্রতিটি জেলায় ১৫ জন সাধারণ ও পাঁচজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য থাকবেন। স্থানীয় সরকারের অন্যান্য স্তরে দলীয় মনোনয়নে চেয়ারম্যান বা মেয়র নির্বাচন হলেও জেলা পরিষদে তা হচ্ছে না।
জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তা স্থগিতের আবেদন করে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিট করেন। রিটে বলা হয়, সংবিধানের ১১ ও ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে সরাসরি জনগণের ভোটে। কিন্তু জেলা পরিষদ আইনের ৪, ৫ ও ১৭ নম্বর ধারার আলোকে নির্বাচন করা হচ্ছে নির্বাচকমণ্ডলীর মাধ্যমে। এখানে সরাসরি ভোটের কোনো সুযোগ নেই। সংবিধানে পরোক্ষ ভোট বলে কিছু নেই। তাই ওইসব ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
জেলা পরিষদ আইন ২০০০ এর ৪ (২) ও ১৭ ধারা এবং জেলা পরিষদ সংশোধিত আইন ২০১৬ এর ৫ ধারাকে রিটে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এসব ধারায় বলা হয়েছে, জেলার অন্তর্ভুক্ত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান যেমন- সিটি করপোরেশন (যদি থাকে), উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধি নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য হবেন। এবং তারা জেলা পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। যদিও নির্বাচকমণ্ডলী যাদেরকে করা হয়েছে সাংবিধানিকভাবে তারা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কিংবা সদস্য নির্বাচনে ভোটার হবেন এমন বিধান নেই। জেলা পরিষদ আইনের ৪(২), ১৭ ও ৫ ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এই মর্মে রুল জারির জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়। আজ আদালত এই বিষয়ে রুল জারি করেন।

Be the first to comment on "জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিলের বৈধতার বিষয়ে রুল"