শিরোনাম

টংগিবাড়ীতে মসজিদের উন্নয়ন কাজের নামে ধোকাবাজী

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জ জেলার টংগিবাড়ী উপজেলার আউটশাহী ইউনিয়নে পূর্ব বলই জামে মসজিদের উন্নয়নের নামে ধোকাবাজী করছে মসজিদ কমিটি। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয় মসজিদ কমিটির সভাপতির সমর্থকরা। গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সভাপতির সমর্থকরা কয়েকজন মুসল্লিকে মার ধর করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় বছর আগে মসজিদ উন্নয়নের প্রতিশ্রতি দিয়ে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মসজিদ কমিটিতে প্রবেশ করে এবং দশ লক্ষ করে মোট বিশ লক্ষ টাকা দেওয়ার ওয়াদা করেন। পরে সভাপতি সেকান্দর বেপারী মিথ্যা প্রতিশ্রতি দিয়ে এই মসজিদের সভাপতি হওয়ার পর ২০১১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আউটশাহী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। চেয়ারম্যান থাকাকালীন দীর্ঘ ৫ বছর সময়ে প্রতিশ্রতি অনুযায়ী তিনি মসজিদ উন্নয়নের কাজ ধরতে পারেননি। ৫ বছর পর কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষিতে সমাজের মুসল্লীগন তাদের কে মসজিদ উন্নয়নের জন্য আরও ছয় মাস সময় দেন। কিন্তু এই ছয়মাসেও মসজিদ উন্নয়নের কাজ তারা শুরু করতে পারেননি।

সূত্র আরো জানায়, বর্ধিত ছয় মাস পার হওয়ার পর সমাজের মুরুবীদের সমালোচনার মূখে তারা নাম মাত্র মূলধন নিয়ে মসজিদ উন্নয়নের লক্ষে মসজিদ ভাঙ্গার কাজ শুরু করে। বর্তমানে মাত্র দুই লক্ষ নব্বই হাজার টাকা নিয়ে তারা দেড় কোটি টাকা বাজেট করে মসজিদ ভাংতে চাচ্ছেন। সমাজের মুসল্লী ও গন্যমান্য ব্যাক্তিদের প্রশ্ন দেড়কোটি টাকা বাজেটের মসজিদ ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে কিভাবে শুরু করবে? সমাজের সকল সচেতন বাসিন্দারা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় তারা নান ধরনের বক্র পথ অবলম্বন করছেন। সাবেক চেয়ারম্যান সেকান্দর বেপারী কয়েকজন বেকার চরিত্রহীন লোক নিয়ে এই কাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ। সমাজের লোকজনের প্রশ্ন চেয়ানম্যান থাকাকালীন সময়ে যে মসজিদের কাজ শুরু করতে পারেননি বর্তমানে কিভাবে করবে? তাহলে মসজিদ ভেঙ্গে মুসল্লীদের কষ্ট দিয়ে সমাজের লোকদের নিকট থেকে টাকা তোলার ব্যবসা নিয়ে বসবেন কি-না? উল্লেখ্য, সেকান্দর বেপারী চেয়ারম্যান থাকা কালীন সময়ে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ লোপাট করেছেন বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যে ব্যাক্তি চেয়ারম্যান থাকার সময় সাধারণ মানুষের টাকা মেরে খেয়েছেন, সে মসজিদের কাজ করতে গিয়ে টাকা মারবেন না, তার গ্যারান্টি কি?

অন্যদিকে, মসজিদের সভাপতি সহ অন্যান্য সদস্যদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট নিয়ে মসজিদের মুসুল্লিরা সন্দিহান। কারন মসজিদের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান সেকান্দর বেপারীর দুই বিয়ে করেন। দুই বিয়েই গ্রাম্য শালিশের মাধ্যমে সর্ম্পূন্য হয়েছে এবং বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া এলাকার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১১ সালের ০৯ আগষ্ট টংগিবাড়ী উপজেলার রংমেহার গ্রামের ইদ্রিস ভূইয়ার ডিভোর্সী মেয়ে ইশিতার (২৩) এর সাথে অবৈধ কাজে লিপ্ত হওয়ার পর এলাকার লোকজন হাতে নাতে ধরে ফেলে এবং তার গাড়ী (ঢাকা-মেট্রো গ-২৯-২৪৫৮) আটক করে। সাবেক এই চেয়ারম্যান স্থানীয় কয়েকজন নেতাকে টাকা দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে ২ (দুই) লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে নির্ভর যোগ্য মূত্রমতে জানা গেছে। এছাড়া ২০০৮ সালে সাতক্ষিরার বি ডি আর তার অবৈধ মাল আটক করে এবং চোরাকারবারী আইনে শ্যামনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ০৪, তারিখ ০১-১২-২০০৮। পরবর্তীতে টাকার বিনিময়ে ও রাজনৈত্রিক প্রভাব খাটিয়ে মামলা হতে অব্যহতি পায়।

এছাড়া মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী নূর ইসলাম আমেরিকা প্রবাসী তিনি ১০ (দশ) লক্ষ টাকার প্রতিশ্রতি দিয়ে কমিটিতে ঢোকে কিন্তু দীর্ঘ ৬ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোন টাকা পয়সা প্রদান করেননি। এক বছর আগে তিনি আমেরিকা থেকে এসে ছোট ভাইয়ের শালিকাকে নিয়ে গোপনে বিয়ে করেন এবং এক সন্তানের জন্ম দেন। এ ধরনের কার্য্যকলাপের জন্য বড় বউ তার নামে গ্রাম্য শালিশীর নিকট অভিযোগ করে। বর্তমানে আবার ছোট বউ সংসার খরচের টাকা না পাওয়ার কারনে চেয়ারম্যানের নিকট অভিযোগ করেছেন। এখন সমাজের বাসিন্দাদের প্রশ্ন এ ধরনের চরিত্রহীন লোক কিভাবে মসজিদের সেক্রেটারী হন? মসজিদের ক্যাশিয়ার হিসাবে চঞ্চল সিকদার এই কমিটিতে যোগ দেন। তিনি এক বছর আগে স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় তিন মাস জেল খেটে এসে বর্তমানে এলাকায় বেকার জীবন যাপন করতেছেন।

কমিটির সদস্যদের নানা অপকর্মের কারণে সামাজের বাসিন্দারা তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। সমাজের বাসিন্দাদের দাবি, মসজিদের উন্নয়ন কাজের সিংহ ভাগ টাকা ফান্ডে জমা না দিয়ে মসজিদ ভাঙা যাবে না।

basic-bank

Be the first to comment on "টংগিবাড়ীতে মসজিদের উন্নয়ন কাজের নামে ধোকাবাজী"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*