শিরোনাম

নৌপথের দূরত্ব কমলেও ভাড়া কমেনি

নিউজ ডেস্ক : কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়ার পরিবর্তে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নতুন নৌ-রুট চালু হয়েছে। নতুন নৌ-রুট চালু হওয়ায় আগের তুলনায় দূরত্ব কমেছে ৫ কিলোমিটার। কিন্তু দূরত্ব কমলেও ভাড়া কমেনি। পারাপারে ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোটের ভাড়া আগের মতোই নেওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ এ নৌরুটে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণ এবং বাস ও ট্রাকচালকরা।

প্রায় ৩০ বছর আগে কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া নৌরুট চালু হয়। এ নৌরুটের দূরত্ব ছিল ১৩ কিলোমিটার। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটটি কাঁঠালবাড়িতে স্থানান্তর করা হয়। এর ফলে ১৩ কিলোমিটার থেকে কমে নৌপথের দূরত্ব ৮ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় দূরত্ব কমেছে ৫ কিলোমিটার। এখন আধাঘণ্টা থেকে ৪০ মিনিটেই এ রুট পাড়ি দেওয়া যাচ্ছে।

কিন্তু দূরত্ব কমলেও ভাড়া কমেনি। ফেরিতে সেই আগেরই নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে যানবাহন চালকদের।

লঞ্চ ভাড়া ৩৫ টাকা ও স্পিডবোট ভাড়া দেড় শ টাকা গুনতে হচ্ছে। এতে ক্ষোভ জানিয়ে দ্রুত ভাড়া কমানোর দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও চালকরা।

নৌরুটের যাত্রী বিমল মন্ডল বলেন, ‘নৌপথের দূরত্ব কমলেও সরকার এখনো ভাড়া কমাচ্ছে না। আমরা দ্রুত নৌপথের দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়া কমানোর দাবি জানাচ্ছি।’

ট্রাকচালক ইকরাম হোসেন বলেন, ‘১৩ থেকে নৌপথ ৮ কিলোমিটারে এসে দাঁড়িয়েছে, এতে জ্বালানি তেলের সাশ্রয় হলেও ভাড়া কমানো নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই।’ ফেরি ভাড়ার পাশাপাশি এ নৌরুটে চলাচলকারী নৌযানের ভাড়া কমানোর জোর দাবি জানান তিনি।

তবে ভাড়া কমানোর বিষয়টি নৌ-মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি বি এম আতাউর রহমান বলেন, ‘ভাড়ার বিষয়ে আমাদের কোনো হাত নেই। মন্ত্রণালয় যদি ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত দেয়, আমরা সেই অনুযায়ী ভাড়া নেব।’

কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক শেখ রুহুল আমিন বলেন, ‘ফেরি ভাড়া কমানোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। এ বিষয়ে ঘাট কর্তৃপক্ষের কোনো হাত নেই।’

অবশ্য নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ভাড়া কমানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন।তিনি বলেন, ‘কয়েক দফা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও ফেরি ভাড়া বাড়ানো হয়নি। তাই এখন নৌপথের দূরত্ব কমলেও ফেরি ভাড়া কমানোর কোনো সুযোগ নেই। আর লঞ্চ ও স্পিডবোটের ভাড়া কমানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মালিকদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, এ রুটে ১৭টি ফেরি, ৭৬টি লঞ্চ ও দুই শতাধিক স্পিডবোট যাত্রী পার করে থাকে।

basic-bank

Be the first to comment on "নৌপথের দূরত্ব কমলেও ভাড়া কমেনি"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*