শিরোনাম

নড়াইল-মাগুরা সড়কের বেহালদশা

নড়াইল-মাগুরা সড়কের বেহালদশা

 

নিউজ ডেস্ক : নড়াইল মাগুরা সড়কটির দৈর্ঘ্য ৪৫ কিলোমিটার সড়কে গ্রাম থেকে বাসে করে স্কুলে যাতায়াত করে তারা। গত অক্টোবর মাসে তাদের সামনেই ঘটে এক ঘটনা: ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে ঝাঁকিতে চলন্ত বাস থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন দুই যাত্রী। ওই ঘটনায় আতঙ্কিত হাসিব বলে, ‘ছুটি না থাকলে স্কুলে তো প্রতিদিন যাওয়া লাগে। রাস্তা যা খারাপ, ভয় লাগে। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোর্টে কিন্তু স্কুল তো কামাই করা যায় না। মাগুরা-নড়াইল সড়কে সবাইকেই এমন আতঙ্ক নিয়ে চলতে হয়। দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার করা হয়নি। ফলে বিশেষ করে মাগুরা শহর থেকে ধলহরা পর্যন্ত প্রায় নয় কিলোমিটারের অবস্থা করুণ। পিচ উঠে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়ক ও জনপথের (সওজ) মাগুরা কার্যালয় ও সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নড়াইল মাগুরা সড়কটির দৈর্ঘ্য ৪৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে মাগুরা অংশে আছে ৩২ কিলোমিটার। নড়াইল মাগুরা শহর থেকে ধলহরা পর্যন্ত নয় কিলোমিটার গত বছরের প্রথম দিকে সংস্কার বা মেরামত করা হয়। কিন্তু একেবারে নিম্নমানের কাজ হওয়ায় দু-এক মাসের মধ্যেই তা আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এ ক্ষেত্রে ঠিকাদারের পাশাপাশি সওজের কর্মকর্তাদের তদারকের গাফিলতি ছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাগুরা সওজের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা নিরুপায়। মাগুরা থেকে ধলহরা পর্যন্ত যে ঠিকাদারেরা কাজ পেয়েছিলেন, তাঁরা নামমাত্র কাজ করেন। ঠিকাদারেরা ক্ষমতাসীন দলের হওয়ায় আমরা কাজ ঠিকঠাক বুঝেও নিতে পারিনি। ফলে সংস্কারকাজ এক মাসও টেকেনি।’ ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, সংস্কারকাজের তিন-চার মাস পর সওজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সড়কটি পরিদর্শনে আসেন। তত দিনে সড়কটি আগের চেয়েও খারাপ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পৌঁছানোর আগেই সওজের স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পকেটের টাকা খরচ করে সড়কের কিছু কিছু জায়গা মেরামত করান।সওজ সূত্র আরও জানায়, সড়কটি এখন মাগুরা থেকে মহম্মদপুর উপজেলায় যাতায়াতের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলার বিনোদপুরে নবগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মিত হওয়ায় ধলহরা থেকে সহজেই মহম্মদপুরে যাওয়া যায়। মাগুরা-মহম্মদপুর প্রধান সড়কের চেয়ে এ পথে দূরত্ব অন্তত সাত কিলোমিটার কম। মাগুরা বাস মালিক গ্রুপ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন মাগুরা থেকে মহম্মদপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ৩৫টি বাস। আর নড়াইল অভিমুখে যায় ৩৭টি বাস। মহম্মদপুরগামী এক বাসযাত্রী কে বলেন, অসুস্থ মানুষকে নিয়ে এ সড়ক পথে চলাচল দুরূহ ব্যাপার। বিশেষ করে রোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই। বাস বা অটো লাফাতে লাফাতে চলে। মাত্র ১০ মিনিটের পথ যেতে সময় লাগে ৩০ মিনিট।অটোচালক নূর মোহাম্মদ বললেন, ‘মিরপাড়া মোড় থেকে মান্দারতলা পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। একটু অসতর্ক হলেই গাড়ি উল্টে যাওয়ার ভয় রয়েছে। ঝাঁকিতে ঝাঁকিতে শরীর ব্যথা হয়ে যায়। তাই আমি এখন এই রাস্তায় ভাড়া না মারার চেষ্টা করি।’বাসচালক রেজাউল ইসলাম বলেন, সড়কের দুরবস্থার কারণে এ সড়কে তাঁদের বিশেষ সাবধানতার সঙ্গে বাস চালাতে হয়। প্রতিদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। ঝাঁকুনির কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ, টায়ার নষ্ট হয়। একবার আসা-যাওয়া করলে আরেকবার যাওয়ার শক্তি থাকে না।মাগুরা সওজের বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল কবীর তরফদার কে বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছি। অনুমোদন হয়ে এলে আশা করি আগামী বছরের জুন মাস নাগাদ সড়কের এ অবস্থা থাকবে না।’ উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি

basic-bank

Be the first to comment on "নড়াইল-মাগুরা সড়কের বেহালদশা"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*