নিউজ ডেস্ক : বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেছেন, বাংলাদেশের সোনালী আশঁ পাটকে নতুন করে বাংলাদেশের মানুষসহ বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে হবে। এ জন্য কাচাঁ পাটের রফতানি নির্ভরতার হ্রাস করে পাটের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বাড়াতে কাজ করছে সরকার। বহুমুখী পাটজাত পণ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও রফতানিতে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে। এর মধ্যে বৈচিত্রকৃত পাটজাত পণ্য ও পাটকাঠি থেকে উৎপাদিত কার্বন রফতানির বিপরীতে নগদ সহায়তা ২০ শতাংশ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য কৃষিপণ্য যে ধরনের ব্যাংক ঋণ ও আর্থিক সহায়তা পায় পাটও কৃষিপণ্য হিসাবে সে ধরনের সহায়তা পাবে। এই সিদ্ধান্ত খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
রবিবার রাতে ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী সেন্টারে বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশনের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভায় কাচাঁ পাট রফতানিকারক ও পাট ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মন্নুজান সুফিয়ান।
সভায় বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী, শির্পাস কাউন্সিল অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান রেজাউল করিমসহ পাট ব্যবসায়ীরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় পাট ব্যবসায়ীরা বলেন, কাঁচা পাট রফতানিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেকটাই দিশেহারা দেশের কাঁচা পাট রফতানিকারকরা। রফতানি নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহারের কারণে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন অনেক ব্যবসায়ী। এ অবস্থায় দেশের অর্থনীতির স্বার্থে দ্রুত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে পুনরায় কাঁচা পাট রফতানির সুযোগ দেয়ার দাবি জানান তারা।
পাট প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পাট শিল্পের এ অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে শেখ হাসিনার সরকার দেশের অভ্যন্তরে ৬টি পণ্য যথা ধান, গম, চাল, ভুট্টা, চিনি এবং সার মোড়কীকরণের ক্ষেত্রে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। খুব তাড়াতাড়ি আরো ১২টি পণ্য মোড়কীকরণের ক্ষেত্রে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। কাঁচাপাট ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন রফতানি বৃদ্ধি, দেশের অভ্যন্তরের পাটপণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি, পাটের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ ও পরিবেশ রক্ষায় পণ্যের মোড়কীকরণে পাটের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন প্রনয়ন করা হয়েছে।

Be the first to comment on "পাটের আভ্যন্তরীন ব্যবহার বাড়াতে কাজ করছে সরকার"