নিউজ ডেস্ক : সব হিসাব-নিকাশ উল্টে নভেম্বরের গোড়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় হাসিল করে নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ সেদিনই প্রেসিডেন্ট-ইলেক্টকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন বারাক ওবামা৷ ওবামার কথায়, ‘আমেরিকার প্রেসিডেন্টের পদটি অনেকটা রিলে রেসের মতো। একজন ব্যাটন ছাড়বে অন্যজন ধরবে। দিনের শেষে মনে রাখা দরকার আমরা একটা দল।’
সমর্থনের সেই ধারাকে অব্যাহত রেখে এবার ওবামা বললেন, যতদিন প্রেসিডেন্ট পদে আছেন, ততদিন ট্রাম্পের কোনো নিন্দা করবেন না৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অযথা প্রেসিডেন্ট-ইলেক্টকে উত্যক্ত করার মানে হয় না৷ তাঁরও সময় দরকার৷ তাঁকেও গুছিয়ে নিতে সময় দিতে হবে৷’ তবে ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন ট্রাম্প৷ ওবামা তখন প্রাক্তন৷ এরপর মার্কিন নাগরিক হিসেবে প্রেসিডেন্টের প্রতিটি পদক্ষেপের চুলচেরা বিশ্লেষণ তিনি করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন ওবামা৷
ওবামার কথায়, ‘ট্রাম্পের কোনো সিদ্ধান্তে যদি মার্কিন মূল্যবোধ ধাক্কা খায়, তবে সমালোচনা তো করতেই হবে৷’ তবে আপাতত ট্রাম্পকে সময় দিতে চান ওবামা৷ অথচ নির্বাচনের আগে দুই নেতা একে অপরের বিরুদ্ধে কম তোপ দাগেননি৷ ওবামার নাগিরকত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন ট্রাম্প৷ আবার প্রেসিডেন্ট পদে ট্রাম্পকে অযোগ্য বলে কটাক্ষ করেছিলেন ওবামা৷ হিলারিকে জেতাতে একেবারে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছিলেন তিনি৷ কিন্তু জেতার পর ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে নেমতন্ন করতে ভোলেননি ওবামা৷
তারপর একঘর সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্পকে বলেছিলেন, ‘আপনার সাফল্য কামনা করি৷ কারণ আপনি সফল হলে দেশও সফল হবে৷’ দুই নেতার ‘যুদ্ধ বিরতি’ এখনও অব্যাহত৷ ট্রাম্পের মুখেও নেই হিলারি বা ওবামার নিন্দা। তবে ২০ জানুয়ারির পর ‘যুদ্ধ বিরতি’ লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন বারাক ওবামা৷ যদিও ওবামার পূর্বসূরী জর্জ বুশ এই নীতিতে বিশ্বাসী নন৷ তাঁর মতে প্রাক্তন কোনো প্রেসিডেন্টের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে নিন্দা করা শোভা পায় না৷ এতে প্রেসিডেন্টের পদকে খাটো করা হয়৷ ২০১৪ সালে যখন দ্বিতীয়বারের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ছিলেন ওবামা, তখন তাঁর বিরুদ্ধে বলার জন্য বুশকে কিন্তু রাজি করানো যায়নি৷ এদিকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পরপরই সম্ভবত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরকারি সফরে আমন্ত্রণ জানাবে ব্রিটেন৷ ডাউনিং স্ট্রিট সূত্রে এমন খবরই মিলছে৷ অথচ এক সময় ব্রিটিশ এমপিরা ইংল্যান্ডে ট্রাম্পের প্রবেশাধিকার নিয়ে বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন৷ কিন্তু নির্বাচনে জেতার পর এখন ট্রাম্পের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।
প্রধানমন্ত্রীর দন্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সফরে নিমন্ত্রণের ব্যাপারে আলাপ আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। এই সফরের নিমন্ত্রণ যাবে ব্রিটেনের রানির নামে। এক্ষেত্রে অতিথির থাকার বন্দোবস্ত হয় বাকিংহাম প্যালেস বা উইন্ডসর প্যালেসে। অতিথির সম্মানে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়৷ যেখানে ব্রিটেনের রানি ছাড়াও হাজির থাকেন রাজ পরিবারের বাকি সদস্যরা৷ ২০১১-র এপ্রিলে এই সম্মান পান বারাক ওবামা।
সূত্র: এই সময়

Be the first to comment on "প্রেসিডেন্ট পদে থাকাকালীন ট্রাম্প-নিন্দায় নারাজ ওবামা"