নিউজ ডেস্ক : ভারত থেকে আসা বন্যহাতি ‘বঙ্গ বাহাদুরে’র মৃত্যুর ঘটনায় একজন বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করেছেন সুপ্রীমেকার্ট আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সুপ্রীমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করা হয়।
রিট আবেদনে হাতিটির মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কাছ থেকে এক কোটি টাকা আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ওই হাতিটি জীবিত উদ্ধারে ব্যর্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
আগামী রোববার এ রিট আবেদনের ওপর হাইকোর্টে শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনকারী আইনজীবী।
রিট আবেদনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব, বন ও পরিবেশ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সচিব, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং জামালপুরের জেলা প্রশাসককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকার বন্যপ্রাণী হিসেবে হাতিটি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এখানে রাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
এর আগে বুধবার এক লিগ্যাল নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাতিটির মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন করতে বলা হয়। এ সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে বলা হয়েছিল। এ অবস্থায় আজ রিট আবেদন করেন ড. ইউনুছ আলী আকন্দ।
বন্যহাতিটি গত ১৬ আগস্ট জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের কয়রা গ্রামে মারা যায়। সরিষাবাড়ীর কামরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনসুর আহম্মেদ জানান, সরিষাবাড়ীর সোনাকান্দর গ্রামে মাটিচাপা দেওয়া বঙ্গ বাহাদুর নামের হাতিটির মৃতদেহ বা এর অংশবিশেষ যাতে চুরি হতে না পারে সেজন্য গ্রাম পুলিশের ছয় সদস্যের একটি দলকে পাহারায় বসানো হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কার্যালয়ের সহকারী বন সংরক্ষক মো. আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত দল হাতিটির মৃত্যুর মূল কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে।

Be the first to comment on "বঙ্গ বাহাদুরের মৃত্যু: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট"