শিরোনাম

ভূয়া সেবায়েত সাজিয়ে ৪২২ .৯৬ একর দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করেন রাগীব আলী

নিউজ ডেস্ক : শিল্পপতি রাগীব আলী। কথিত এই দানবীর প্রতারণায় ছিলেন বড় পটু। জালিয়াতির মাধ্যমে সিলেটের তারাপুর চা বাগানের ভূমি আত্মসাত করে সেখানকার দেবোত্তর সম্পত্তিতে গড়ে তুলেছিলেন নিজের সাম্রাজ্য। আর এই সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি যেন ছিলেন তিনিই। জালিয়াতির মাধ্যমে গড়া নিজ সাম্রাজ্য তারাপুরে এবার অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো তাকে। একই সাথে ভারত থেকে তাকে ফেরত এনে শাস্তির মুখোমুখি করার দাবীও স্থানীয় জনসাধারণের।

১৯৯০ সালে রাগীব আলী তার আত্মীয় দেওয়ান মোস্তাক মজিদকে ভূয়া সেবায়েত সাজিয়ে জালিয়াতীর মাধ্যমে ৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠা তারাপুর চা বাগানের দখল নেন রাগীব আলী। মন্ত্রণালয়ের কাগজ জালিয়াতের মাধ্যমে আত্মসাতকৃত এই ভূমির মূল্যমান প্রায় হাজার কোটি টাকা। যার পুরোটাই দেবোত্তর সম্পত্তির অংশ।

জমি দখল নেয়ার পর রাগীব সেখানকার দেবোত্তর সম্পত্তিতে গড়ে তুলেছিলেন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। তাছাড়া জালিয়াতিতে পটু এই ব্যক্তি ছলে-বলে দেবোত্তর সম্পত্তির এই জায়গাকে ব্যাক্তিগত সম্পত্তি উল্লেখ করে ভূয়া কাগজের মাধ্যমে প্লট আকারে স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করেন।

স্থানীয় ক্রেতারা সরল বিশ্বাসে এসব জমি কিনে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন এতদিন। রাগীব আলীও ছিলেন তাদের কাছে রাজার তুল্য।

কিন্তু চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি উচ্চ আদালত তারাপুর চা বাগানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা ৬ মাসের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলে বিপাকে পড়েন ওই এলাকার বাসিন্দারা। তাদের উচ্ছেদ না করতে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচীও পালন করেন তারা।

সর্বশেষ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তারাপুরের অবৈধ সব স্থাপনার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের নোটিশ যাওয়ার পর রোববার দুপুরে ‘আমরা সিলেটবাসী’র ব্যানারে নগরীর পাঠানটুলা পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারাপুরের বাসিন্দারা।

ওই কর্মসূচী থেকে রাগীব আলীকে তারাপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। এছাড়া গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরেও সে কিভাবে ভারত পালিয়ে গেলো? এ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। শীর্ষ এই জালিয়াতকে দেশে এনে শাস্তির পাশাপাশি তার জালিয়াতির কারণে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষতিপূরণেরও দাবি জানান তারা।

গত ১০ জুলাই ভূমি জালিয়াতি ও প্রতারণার দায়ে রাগীব আলী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতে দুটি মামলার অভিযোগপত্র দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারোয়ার জাহান।

১১ আগস্ট বহুল আলোচিত এই মামলা দুটির শুনানির পর রাগীব আলী, তার ছেলে-মেয়েসহ ৬ আসামীর বিরোদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরদিন বিকেলে সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সপরিবারে ভারতে পালিয়ে যান রাগীব।

আদালত যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন তাদের মধ্যে রাগীব আলী ছাড়াও রয়েছেন তার ছেলে আবদুল হাই, মেয়ে রেজিনা কাদির, জামাতা আবদুল কাদির, তারাপুর চা বাগানের সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত ও রাগীব আলীর নিকটাত্মীয় মৌলভীবাজারের রাজনগরের বাসিন্দা দেওয়ান মোস্তাক মজিদ।

এর আগে গত ১৫ মে চা বাগানের বিভিন্ন স্থাপনা ছাড়া ৩২৩ একর ভূমি সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন।

basic-bank

Be the first to comment on "ভূয়া সেবায়েত সাজিয়ে ৪২২ .৯৬ একর দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করেন রাগীব আলী"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*