নিউজ ডেস্ক : ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি নিয়মিত পারফরমার।
তবে ব্যাটসম্যান হিসেবে বড় কোনো পরিচিতি পাননি এতদিন। বিসিবির ডাক পেয়ে সেই আব্দুল মজিদ চমকে দিলেন ঝড়ো ব্যাটিংয়ে; তার ব্যাটে দিশাহারা শক্তিশালী ইংলিশরা।বাংলার নতুন বাঘ মাজিদের ব্যাটিং ঝড়ে রোববার সকাল থেকে দিশাহারা ইংলিশরা
দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন লাঞ্চের আগ সেঞ্চুরির অসাধারণ কীর্তি প্রায় করেই ফেলেছিলেন মজিদ। সেটা হয়নি, তবে যা করছেন তাতেই লাঞ্চ বিরতিতে যেতে পেরে স্বস্তি পাওয়ার কথা ইংলিশ বোলারদের। ৮৬ বলে ডানহাতি ওপেনার অপরাজিত ৯২ রানে!চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ২৬ ওভারে ১ উইকেটে ১২৭ রান তুলে লাঞ্চে গিয়েছে বিসিবি একাদশ।‘ঝড়’ বললে যেমন শোনায়, তেমন তাণ্ডব কিন্তু ছিল না মজিদের ব্যাটে। প্রায় সবই ছিল দারুণ ক্রিকেট শট। তার ব্যাটিং খুব স্টাইলিশ নয় কখনোই। তবে এদিন ড্রাইভগুলো ছিল চোখ জুড়ানো আর মন ভরিয়ে দেওয়া। তার পুরো ইনিংসে আলাদা করে চোখে পড়ার মত ছিল ড্রাইভগুলোই।
২০১৪ সালে জাতীয় লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর মজিদকে পাঠানো হয়েছিল ‘এ’ দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজে। কিন্তু বারবাডোজে ক্যারিবিয়ান পেসারদের বিপক্ষে মজিদের নড়বড়ে ব্যাটিং হতাশ করেছিল সফরে থাকা নির্বাচককে।এখানে উইকেট অবশ্যই বারবাডোজের মত প্রাণবন্ত নয়। তবে ইংলিশ ইংলিশ বোলিংও ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাডেমি দলের চেয় ঢের ভালো। মজিদ তাই কৃতিত্ব দাবি করতেই পারেন!শর্ট বল ও শর্ট অব লেংথে এদিনও খানিকটা অস্বস্তি দেখা গেছে মজিদের। তবে তাতে ম্লান হচ্ছে না বাকি সময়টুকুর দুর্দান্ত ব্যাটিং। ফুল লেংথ বল পেলেই চোখে পলকে গিয়েছেন পজিশনে, খেলেছেন দারুণ সব অফ ড্রাইভ, অন ও কাভার ড্রাইভ। স্পিনে পায়ের কাজও ছিল দেখার মত। খেলেছেন দারুণ কিছু ইনসাইড আউট শট।
স্টুয়ার্ট ব্রডকে প্রথম ওভারেই চার মেরে শুরু করেছিলেন মজিদ। এরপর যেন আর থামাথামি নেই। ক্রিস ওকসকে চার মেরেছেন টানা তিন বলে, শেষ দুটি দারুণ অফ ড্রাইভে। পরের ওভারে ব্রডকে টানা দুটি চার অফ ও অন ড্রাইভে। বাঁহাতি স্পিনার জাফর আনসারিকে স্বাগত জানান ইনসাইড আউটে চার মেরে।আরেকপাশে সৌম্য ছিলেন শান্ত। চেষ্টা করছিলেন ঠাণ্ডা মাথায় থিতু হতে। কিন্তু ওকসের লেংথ থেকে লাফিয়ে ওঠা বল একটু শক্ত হাতে ডিফেন্ড করতে গিয়ে ধরা পড়লেন শর্ট কাভারে।সৌম্য যখন ৪ রানে ফিরছেন, মজিদের রান তখন ২৯ বলে ৪২। আনসারি ও স্টিভেন ফিন আক্রমণে আসার পর অবশ্য খানিকটা কমে মজিদের গতি। তার পরও অর্ধশতক স্পর্শ করেন ৩৯ বলে।
গ্যারেথ ব্যাটি ও বেন স্টোক আক্রমণে আসার পর আবার গতিময় হয় মজিদের রানের চাকা। ব্যাটিকে বাউন্ডারি মারার এক বল পরই ওড়ান লং অন দিয়ে। স্টোকসকে টানা দুটি চার অফ ড্রাইভে। পরের ওভারে চার ছিল সোজা ব্যাটে পুল শটে!আরেক পাশে তরুণ নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যাট করে গেছেন আস্থায়। একবার অবশ্য ফিনের বলে বিহাইন্ডের জোড়ালো আবেদন করেছিল ইংলিশরা। সাড়া দেননি আম্পায়ারা। এটা নিয়ে লেগ আম্পায়ার আনিসুর রহমানের সঙ্গে অনেকক্ষণ অসন্তুষ্টি জানিয়ে গেলেন উইকেটকিপার জনি বেয়ারস্টো। ভড়কে না গিয়ে লাঞ্চের সময় শান্ত অপরাজিত ২৬ রানে।
১৪টি চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ৯২ মজিদ। ব্রডের ১৯ বলে ৫টি চারে নিয়েছেন ২৫ রান, ওকসের ১০ বলে ১৭, স্টোকসের ১০ বলে ১৫!ম্যাচ সকাল থেকেই মাঠে বসে দেখছেন জাতীয় কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে। মজিদের ব্যাটিং তার নজর না কাড়ার কারণ নেই!পায়ে ক্র্যাম্প করায় লাঞ্চের পর আর ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি মজিদ। ব্যাটিংয়ে নামেন মুমিনুল হক।স্কোয়াডে না থাকলেও টেস্টের আগে প্রস্তুতির জন্য আচমকাই মুমিনুলকে নেওয়া হয় এই ম্যাচে। তবে মাত্র ১ রান করেই মইন আলির বলে বোল্ড হন তিনি।
মাজিদের ব্যাটিং ঝড়ে দিশাহারা ইংলিশরা

Be the first to comment on "মাজিদের ব্যাটিং ঝড়ে দিশাহারা ইংলিশরা"