নিউজ ডেস্ক : উৎসবে মেতে ওঠার অপেক্ষায় ন্যু ক্যাম্পের বেশির ভাগ দর্শক। সোসিয়েদাদের সঙ্গে ড্র, হারকিউলিসের সঙ্গে ড্রয়ের বৃত্তটা বুঝি ভাঙা গেল এবার! তাও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে জয় দিয়ে।
শেষ বাঁশির আর অল্প কয়েক মুহূর্তের অপেক্ষা। এর পরই তো কড়কড়ে ৩ পয়েন্ট, পয়েন্ট টেবিলে ব্যবধানটা কমিয়ে হাতের নাগালে নিয়ে আসা। ভাবনার পক্ষীরাজ বুঝি পাখা মেলেছিল এভাবেই। তাতে লাগাম পরিয়ে মাটিতে নামাল সের্হিয়ো রামোসের মাথা! রিয়ালের দুঃসময়ে বহুবারই যে বিশ্বস্ত করোটি দিয়েছে প্রতিদান। লুকা মডরিচর বুঝি ক্রসটা জ্যামিতির হিসাব মিলিয়েই করেছিলেন! রক্ষণের মানবদেয়ালের সামনের ফাঁকা জমিনে তখন তিনটি সাদা জার্সি। রামোস, রাফায়েল ভারান ও মারিয়ানো ডিয়াজ। বলে লাগল রামোসের মাথাটাই, টের স্টেগেনে ঠিক দিকেই ঝাঁপিয়েছিলেন। কিন্তু অমন বুলেটগতির হেডের কাছে পরাস্ত হওয়াটাই যে নিয়তি! দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল বার্সেলোনা। খেলা শেষের কয়েক মিনিট আগে সেটাই শোধ করে হিসাব সমান করে দিলেন রামোস। ১-১ সমতায় শেষ এল ক্লাসিকো, তবে প্রবল প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে এমনভাবে হার এড়িয়ে আসাটা নিঃসন্দেহে রিয়ালের জন্য জয়েরই সমান।
ইনিয়েস্তা ছিলেন না শুরুর একাদশে, জিদানও রাখেননি কাসেমিরোকে। অথচ ম্যাচ মাঠে গড়ানোর আগে জোরালো পূর্বাভাস ছিল দুজনেরই শুরু থেমে মাঠে থাকার। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই লুকাস ভাসকুয়েজকে বক্সের ভেতর যেভাবে ডান দিক থেকে তেড়ে এসে আড়াআড়ি পা চালিয়ে ফেলে দিলেন মাসচেরানো, তাতে কেন রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালেন না, তা নিয়ে রিয়াল সমর্থকদের বেজায় ক্ষোভ। বলের দখলের সিংহভাগ নিজেদের পায়ে রেখেই খেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা করে বার্সেলোনা। মাঝমাঠে দখল থাকলেও রক্ষণ ভেঙে ঢোকার সুযোগ তারা পেয়েছে কমই। তবে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে বক্সের ভেতর বাঁ দিকে নেইমার হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়ায় বড় বিপদ হয়নি রিয়ালের। শুরুতেই ইসকোর কড়া ট্যাকলে কিছুটা চোট পান নেইমার। একটা বাজে অভ্যাস তাঁর, কেউ ট্যাকল করে আঘাত দিলে মাঠে তাকেও আঘাত করার একটা সুযোগ খোঁজেন এই ব্রাজিলিয়ান, নিজেও পরে আচমকাই ইসকোকে ফাউল করেছেন এবং কার্ড দেখেছেন। ফলে পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখা হয়ে গেছে তাঁর, পরের ম্যাচটা তাই দর্শকের আসনেই থাকতে হচ্ছে। প্রথমার্ধে মেসির একটা ফ্রি কিক আটকেছেন নাভাস, মার্সেলোর ক্রসে পা লাগাতে পারেননি রোনালদো। এভাবেই কেটেছে ৪৫ মিনিট, বেশ কিছু সম্ভাবনার মুহূর্ত তৈরি হলেও গোল হয়নি। গোলের আশায় কোপা দেল রেতে আগের ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করা ডোমিনিকান স্ট্রাইকার মারিয়ানোকেও নামান।
দ্বিতীয়র্ধের ‘বিল্ডআপ প্লে’ থেকে গোল করতে পারেনি কোনো দলই, দুটি গোলের উৎসই সেটপিস। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে বাঁ দিক থেকে বেশ আড়াআড়ি জায়গা থেকে নেওয়া নেইমারের ফ্রি কিকে সুয়ারেসের হেড এগিয়ে দেয় বার্সেলোনাকে। খেলার ৬০ মিনিটে রাকিতিচকে তুলে ইনিয়েস্তাকে নামিয়েছিলেন লুই এনরিকে, জিদানও এর মিনিট ছয়েক বাদে ইসকোকে তুলে নামান কাসেমিরোকে। এরপর খেলায় বাড়ে ধার। আরো গোলে জয়ের নিশ্চয়তা বাড়াতে মরিয়া কাতালানরা, রিয়াল মওকা খুঁজছে গোল শোধের। কিন্তু জোরালো সুযোগ পায়নি কোনো পক্ষই। ৮৭ মিনিটে কারভাহালের ক্রসে রামোসের হেডটা চলে যায় একটু ওপর দিয়ে। তাই বোধ হয় দ্বিতীয় সুযোগটা পেয়ে কোনো ভুল করেননি! ২০১৪-এর চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে এভাবে শেষ মুহূর্তে গোল করেই রিয়ালের হার ঠেকিয়ে খেলাটা অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গিয়েছিলেন রামোস, যেখান থেকে শিরোপাও জিতেছিল রিয়াল। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে সেবার সেমিফাইনালেও হেডে গুরুত্বপূর্ণ দুটি গোল করেছিলেন রামোস। এবার ক্লাসিকোতেও দেখালেন মাথার খেল! অধিনায়ককে নেতৃত্ব দিতে হয় সামনে থেকে, রামোস বুঝি সেটাই করে দেখালেন মাথা দিয়ে। ড্রতে দুই দলই ১ পয়েন্ট করে বাড়ায় ব্যবধানে ফারাক হয়নি পয়েন্ট টেবিলে। ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রিয়াল, ৬ পয়েন্ট পেছনে দুইয়ে বার্সেলোনা। গোল, বিবিসি

Be the first to comment on "রামোসের গোলে সমতা ক্লাসিকোয়"