শিরোনাম

লোহাগড়ায় ভিজিএফ’র ২৫২ বস্তা চাল আত্মসাত

লোহাগড়ায় ভিজিএফ’র ২৫২ বস্তা চাল আত্মসাত

নিউজ ডেস্ক : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় একটি পৌরসভাসহ ১২ টি ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফের চাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সেলিম রেজা’র তত্বাবধানে বিতরন করা হয়। উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে সুষ্ট ও সুন্দর ভাবে বিতরন করা হলেও, কাশিপুর ইউনিয়নে ভিজিএফ এর চাল বিতরনে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, প্রতি বছরের মতো এবারো ঈদে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার জনপ্রতি ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেয়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে তা বিতরন করা হয়। উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদের ন্যায় কাশিপুর ইউনিয়নের স্থানীয় দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ওই চাল শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) থেকে বিতরন শুরু হয়ে (১২ সেপ্টেম্বর) শেষ হয়।

উপজেলার ত্রান শাখা সুত্রে জানা গেছে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে বিতরনের জন্য কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের ২৭ হাজার ৬শ কেজি চাল ২ হাজার ৭শ ৬০ জনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উল্লেখিত জনগোষ্ঠী অধিকাংশ মানুষ চাল না পাওয়ায় ইউপি সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের নিকট চালের পরিমান জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মতিয়ার, রাগাম্বিত ও উত্তেজিত হয়ে গালমন্দ করলে মেম্বার ও স্থানীয়দের সাথে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল অহেদ শেখ অভিযোগ করে বলেন, মেম্বারদের মাধ্যমে চাল বিতরন করার সরকারি নির্দ্দেশনা থাকলেও চেয়ারম্যান সেই নিয়ম মানেননি। বরাদ্দকৃত ৫শ ৫২ বস্তা চালের অর্ধেকের বেশি (৫০ কেজি বস্তা)র ৩শ বস্তা চাল ইউনিয়ন পরিষদে এনে আত্মীয়সজন ও পরিচিত জনের মাঝে বিতরন করেছে। বাকি ২শ ৫২বস্তা চাল আত্মসাত করেছে। কাশিপুর,শালবরাত ও পদ্মবিলা এই তিন গ্রাম নিয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ড। এখানকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ৮০ শতাংশ মানুষ ভিজিএফের চাল পায়নি।

কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মো: নুরুল ইসলাম (রেজাউল) বলেন, অত্র ইউনিয়নে দরিদ্রদের জন্য পৌনে ২৮ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ এসেছে। বিতরনের আংশিক সময় আমি ছিলাম, বাকি দাপ্তরিক কাজ করেছি। চাল কতটুকু পরিষদে এসেছে আমি জানিনা।

কাশিপুর গ্রামের নছিমন চালকের দলনেতা মো: দেলোয়ার খান বলেন, বোর্ড অফিসের সরকারি বরাদ্দকৃত চাল,গম আগাগোড়া আমিই এনে থাকি, এবারও আমি ৫০ কেজি বস্তার চাল ৩০ বস্তা করে ৫টি নছিমনে দু’বারে ৩শ বস্তা এনেছি।

লোহাগড়া খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) পলাশ কুমার মুখার্জি বলেন, কাশিপুর ইউনিয়নের চাল কতো মেট্রিকটন বা,কতো বস্তা বা, কতো বস্তা বাকি আছে সেটা আমি বলতে পারবো না, তবে তিনি (চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান) ৫০ কেজির ৩শ বস্তা চাল নিয়েছেন।

নাম না বলার শর্তে খাদ্য গুদামের এক কর্মচারি বলেন, কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা যা বলে তাই না করে মাইর খাবে কে, ৫০ কেজির ৩শ বস্তা চাল দিয়ে সম্পুন্য চালের ডেলিভারি দেখানো লাগছে। আমাদের কোন উপায় নাই,আমরা চাকুরি করি, যে ভাবে বলে সেই ভাবেই কাজ করতে হয়।
একই শর্তে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য বলেন, ভূয়া মাস্টার রোল তৈরি করে,কাগজ কলম ঠিক করে রাখা হয়েছে।

কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: মতিয়ার রহমান, অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঈদ উপলক্ষে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য পরিষদে চালের যে, বরাদ্দ এসেছে তাহা মেম্বারদের মাধ্যমে দরিদ্রদের মাঝে বিতরন করা হয়েছে।

basic-bank

Be the first to comment on "লোহাগড়ায় ভিজিএফ’র ২৫২ বস্তা চাল আত্মসাত"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*