নিউজ ডেস্ক ॥ চুয়াডাঙ্গার দর্শনার পর এবার নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কাজে রডের বদলে বাঁশের ব্যবহারের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল ছড়িয়ে পড়ায় তোলপাড়ের সুষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি স্কুল ভবনের ঢালাই ও প্লাস্টার খঁসে বাঁশের অংশবিশেষ বের হলে বিষয়টি সবার নজরে আসে। বাঁশের পাশাপাশি স্কুল ভবনের ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া ভবনের মেঝে ডেবে গেছে। আতঙ্ক আর ঝুঁকি নিয়ে ওই ভবনেই চলছে প্রায় দু’শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীর পাঠদান। এ নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর। যে কোন সময় ধ্বসে পড়তে পারে ভবনটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের ২৯নং নোয়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে ফাটল ও বাঁশ বের হয়ে যাওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীরা ভয়ে স্কুলে আসতে চাচ্ছে না । বিষয়টি তদন্ত করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, ঠিকাদার, প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কাজের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকসহ সচেতন মহল।
স্কুলটি ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় । ২০০৩-২০০৪ অর্থ বছরে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকা কালে বিদ্যালয়ের পূর্ননির্মাণ কাজ করা হয়। “ছাপা ও নাজির” নামের দুই ব্যক্তি ঠিকাদার ছিলেন বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ভবন নির্মাণ কাজের প্রধান শ্রমিক বলেন, রাতে ওই স্কুল ভবনের ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে। তবে তিনি রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহারের বিষয়ে সনেÍাষজনক জবাব দিতে পারেনি।
এছাড়াও বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটি ভাঙ্গার পর সেটির ইট, রড,টিন সব কিছুই টে-ার ছাড়াই বিক্রি করা হয়। যার কোন সঠিক হিসেব আজও পাওয়া যায়নি বলে জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) লোহাগড়া উপজেলা প্রকৌশলী ওসমান গনি’র নিকট ভবন নির্মাণের দাপ্তরিক ফাইল,প্রকৌশলী ও ঠিকাদার কে ছিলেন ? সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তথ্য না দিয়ে টালবাহানা করে কৌশলে এড়িয়ে যান।
বিদ্যালয়ের এই বেহাল দশা প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক কাজী রবিউল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন,বিদ্যালয়ের ভবনটির ছাদে ফাটল, মেঝে ডেবে যাওয়া ও ভবনের পিলারসহ কয়েক স্থানে বাঁশ বের হওয়ার ঘটনাটি সত্য। তবে এটা ভয়ের কিছু নাই। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ফাটলের স্থানগুলো সংস্কার করে ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। বেশ আগে থেকেই ছাদ দিয়ে পানি পড়তো, সেটিও সংস্কার করা হয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এ এস সালেকিন জানান, তদন্ত করে বিষয়টির সুরাহা হওয়া উচিত। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লূৎফর রহমান বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, উর্দ্দতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
সারা দেশে সরকারি ভবন তৈরিসহ বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনা একের পর এক ফাঁস হতে থাকায় পূর্তকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভবন ও স্থাপনাগুলোর স্থায়ীত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।
নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার এই বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণকালে বিষয়টি গোপন থাকলেও কয়েক বছর যেতে না যেতেই খঁসে পড়ছে বিদ্যালয় ভবনের প্লাস্টার, ঢালাই। আর বেরিয়ে আসছে রডের পরিবর্তে ব্যবহৃত বাঁশ আর বাঁশ।

Be the first to comment on "লোহাগড়ায় স্কুলভবনে রডের বদলে বাঁশ!"