নিউজ ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক কথিত যুবকের ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করা ও ছবি অপলোডের জের ধরে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা সদরে মূর্তি ও মন্দির ভাংচুর সহ বাসা-বাড়ীতে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। একশ্রেনীর ঘাপটি মেরে থাকা উৎশৃংখল প্রকৃতির লোক এখনও মারমুখী অবস্থানে থাকায় এসপি জয় দেব কুমার ভদ্রের নের্তৃত্বে পুলিশ-র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা রয়েছে সতর্কাবস্থায়।
এদিকে সংশ্লিস্ট ঘটনায় সোমবার মাধবপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে। সংশ্লিস্ট থানার এসআই গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে দায়েরকৃত এই মামলায় অন্তত দেড়’শ লোককে আসামী করা হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভূক্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা রয়েছেন চরম ভয় ও উৎকন্ঠায় থাকার কথা জানিয়ে সংশ্লিস্ট উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুনীল দাশ জানান, সংঘটিত ওই ঘটনায় আমরা মর্মাহত। এদিকে এই ঘটনার পরপরই স্থানীয় এমপি এডভোকেট মাহবুবু আলী, জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এমরান হোসেন,আরডিসি আরিফুল হকসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-গণমান্য ব্যক্তিবর্গ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের মানষের নিরাপত্তা বিধানে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করেন। সোমবার ঘটনাস্থলে দিনভর অবস্থান নিয়ে সার্বিক পরিস্থিতির তদারিকে থাকা পুলিশ সুপার জয় দেব কুমার ভদ্র বলেছেন, যারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া আমরা ইতিমধ্যে ৩ জনকে সন্দেহজনক হিসেবে আটক করেছি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পাশ্ববর্তী জেলা বি-বাড়ীয়ার নাসিরনগর উপজেলাধীন জনৈক রসরাজ দাস নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মের অনুভুতির ওপর আঘাত করে ফেইসবুকে ছবি আপলোড ও মন্তব্য ছোড়ার অভিযোগ উঠে। আর এরই প্রতিবাদে গতকাল রবিবার বিকেলে মাধবপুর বাজারে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে আহলে সুন্নাতুল জামাত নামে একটি সংগঠন। এতে মাধবপুর ছাড়াও পাশ্বর্তী জেলা বি-বাড়ীয়ার বিজয়নগর, নাসিরনগর উপজেলা থেকেও দল বেঁধে মিছিল নিয়ে শত শত লোক সমাবেশ স্থলে জড়ো হয়। একই সময় এই সভার খবর পেয়ে সংশ্লিস্ট সমাবেশ স্থলে পুলিশও উপস্থিত হয়। এসময় একটি উৎশৃংখল একদল যুবক সমাবেশ স্থল থেকে বের হবার চেষ্টা চালালে বাঁধা দেয় পুলিশ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে সমাবেশস্থলে লোকজন। সৃষ্টি হয় উত্তেজনা। এক পর্যায়ে সংশ্লিস্ট সংগঠনের পাশ্ববর্তী জেলার নাসিরনগর এলাকার বহিরাগত কতিপয় নেতা-কর্মী পুলিশের সাথে সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় মাধবপুর এলাকারও কিছু বিক্ষুব্ধ লোকজন তাদেও সাথে যোগ দেয়। সেই সাথে মন্দিরে হামলা চালিয়ে কালী মন্দিরের মুর্তি ও গেইট ভাংচুর, আসবাবপত্র তছনছ সহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি শুরু করে। বাসা-বাড়ীতেও হামলার ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে হবিগঞ্জ থেকে এএসপি রাসেলুর রমানের নের্তৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হলে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় র্যাব ও বিজিবি’র একটি টীম। পরবর্তীতে শ্রীমঙ্গলস্থ র্যাব-৯ ক্যাম্পের অধিনায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরীর নের্তৃত্বে এবং অপরদিকে বিজিবি’র ২ প্লাটুন সদস্য হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। এসময় আহত হয় অন্তত ৩৫ জন। এদিকে এই ভয়াবহ ঘটনার আরও ব্যাপক বিস্তৃতি সম্মিলিত বাহিনী রোধ করলেও তা নিয়ে নানা স্থানে নানান উস্কানীমূলক কানা-ঘোষা ও আলোচনার কারনে আবারও অঘটনের আশংকায় আজ সোমবারও দিনভর পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর নিরাপত্তা চাদরে রয়েছেন সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মের লোকজন এবং তাদের উপাসনালয়গুলো। তবে ওই হামলার ঘটনার জন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদাসীনতাকে দায়ী করে সনাতন ধর্মের নের্তৃবৃন্দ বলেছেন, ঘটনার দিন দুপুর ২ টার দিকেই সংশ্লিস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এমন হামলার আশংকা জানিয়ে অবহিত করা হলেও অগ্রীম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি ছিলেন উদাসীন।

Be the first to comment on "সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে বহিরাগতদের হামলা :নিরাপত্তা জোরদার"