নিউজ ডেস্ক : এখন থেকে সচিবদের সমমর্যাদা পাবেন জেলা জজরা। তবে সাংবিধানিক পদধারী হওয়ায় তারা একই পদমর্যাদায় থাকলেও নামের ক্রমিকে আগে থাকবেন। দেশের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার ক্রম (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স তালিকা) বাতিল করে দেয়া আপীলের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ কথা বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রীমকোর্টের ওয়েবসাইটে ৬২ পৃষ্ঠার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।
২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপীল বিভাগের বেঞ্চ হাইকোর্টের দেয়া রায় কিছুটা সংশোধন করে সরকারের আপীল নিষ্পত্তি করে রায় দেন। সরকারের কার্যপ্রণালী বিধি (রুলস অব বিজনেস) অনুযায়ী, ১৯৮৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স তৈরি করে তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ২০০০ সালে সরকার ওই প্রজ্ঞাপন সংশোধন করেন। সংশোধিত ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস। অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব আতাউর রহমান ২০০৬ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
আবেদনে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স তৈরির ক্ষেত্রে সাংবিধানিক পদ, সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত ও সংজ্ঞায়িত পদগুলো প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিচের ক্রমিকে রাখা হয়েছে দাবি করে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। পরে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. মইনুল ইসলাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সরকারের প্রণীত ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স বাতিল ঘোষণা করে ৮ দফা নির্দেশনা দেন।
ওই রায়ে বলা হয়, সকল সাংবিধানিক পদ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রথমে থাকবে। এরপর সংবিধান স্বীকৃত পদ যেমন- জেলা জজ, তিন বাহিনী প্রধান স্থান পাবেন। এরপর থাকবেন যথাক্রমে জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং সচিবরা। একই সঙ্গে জেলা জজ পদকে শুধু নির্ধারিত জেলার মধ্যে প্রযোজ্য বলে গণ্য করা যাবে না বলেও রায়ে উল্লেখ করেন উচ্চ আদালত।

Be the first to comment on "‘সচিবের মর্যাদা পাবেন জেলা জজরা’"