নিউজ ডেস্ক : প্রতিবেদনে বাঙালি দুস্কৃতকারী শব্দ ব্যবহার করায় হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন গাইবান্ধার ডিসি মোহম্মদ আবদুস সামাদ। আজ সোমবার সকালে আদালতে হাজির হয়ে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
পরে দুপুরে আদালতে জিজ্ঞাসার জবাবে ডিসি বলেন, প্রতিবেদনে শব্দচয়নে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়নি। এ জন্য আমার ভুল হয়েছে। আমি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তিনি বলেন, গত ১৬ নভেম্বর পুলিশ সুপারের কাছ থেকে হামলার ঘটনার বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা পাই। ওই বর্ণনায় বাঙালি দুষ্কৃতকারী শব্দটি ছিল। যেহেতু বিষয়টি তদন্তের জন্য নিয়েছি সেহেতু ওই শব্দটি হুবহু রাখা হয়েছে। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আপনি শিক্ষিত লোক। সিভিল সার্ভিসের সদস্য। এ ধরনের শব্দ আর কখনো ব্যবহার করবেন না। এটি খুবই খারাপ শব্দ যা আপনি প্রতিবেদনে ব্যবহার করেছেন।
বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের ডিভিশন বেঞ্চ শুনানি শেষে তার ক্ষমার আবেদন মঞ্জুর করে গাইবান্ধার ডিসিকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেয়। আদালতের আদেশে গত ৩০ নভেম্বর গাইবান্ধার ডিসি, এসপি ও রংপুর সুগার মিল কর্তৃপক্ষ তিনটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। গতকাল এসব প্রতিবেদনের ওপর শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ধার্য ছিল। শুনানির একপর্যায়ে ডিসি আব্দুস সামাদের দেওয়া প্রতিবেদনের বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। ওই প্রতিবেদনে ডিসি বলেছেন, গত ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রংপুর সুগার মিলের সাহেবগঞ্জ খামারস্থ ওই সুগার মিলের ইক্ষু মাড়াই কর্মসূচি চলাকালে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য/বাঙালি দুষ্কৃতকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যসহ মিল কর্তৃপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে।
সৃষ্ট এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সদস্য ও বাঙালি দুষ্কৃতকারীদের ছত্রভঙ্গ করা, সরকারি অস্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের জানমাল রক্ষায় শটগানসহ চায়না রাইফেল হতে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করা হয়েছে- মর্মে পুলিশ সুপার, জেলা বিশেষ শাখা গাইবান্ধা জানিয়েছেন। উক্ত গুলি বর্ষণ যুক্তিযুক্ত হয়েছে কিনা সে বিষয়ে নির্বাহী তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বাঙালি দুষ্কৃতকারী শব্দটি দেখতে পেয়ে হাইকোর্ট ডিসিকে তলব করে। এ ছাড়া সাঁওতালদের পক্ষে করা প্রথম মামলার বাদী স্বপন মুরমুকেও আদালতে হাজির করতে এসপি ও ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত।

Be the first to comment on "হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন গাইবান্ধার ডিসি"