শিরোনাম

হাসনাতের জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে পুলিশ

নিউজ ডেস্ক : গুলশান হামলায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমের জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন।
গতকাল রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদেরে প্রশ্নের জবাবে আবদুল বাতেন বলেন, ‘কোনো ঘটনায় কাউকে সন্দেহ হলে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়। গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলায় জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা মেলায় হাসনাত করিমকে মূল মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
হাসনাত করিমকে গত শনিবার আদালতের মাধ্যমে গুলশান হামলা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আট দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এর আগে তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আট দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পুলিশ।
হাসনাত করিমের বিষয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনারের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তাঁর স্ত্রী শারমিনা পারভীন বলেন, এ নিয়ে তিনি আগের শনিবার একটি লিখিত বিবৃতি পাঠিয়েছেন। এর বাইরে তাঁর আর কোনো বক্তব্য নেই। আগের দিনের বিবৃতিতে শারমিনা পারভীন বলেছিলেন, ‘হাসনাতকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় আমরা হতাশ। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী যে তদন্ত করা হলে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন। আমরা তাঁর মুক্তির জন্য কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করে যাব।’
গত ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার সময় সেখানে সপরিবারে ছিলেন হাসনাত করিম। এ ছাড়া হামলার ঘটনার আগের দিন দেশে ফেরা কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাহমিদ হাসিব খানও ওই সময় রেস্তোরাঁয় ছিলেন। সেখানে জঙ্গিরা ১৮ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে। জঙ্গিদের বোমায় মারা যান দুই পুলিশ কর্মকর্তা। পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে কমান্ডো অভিযানে পাঁচ হামলাকারীসহ ছয়জন নিহত হন। অভিযানের আগেই হাসনাত করিম, তাহমিদসহ আরও কয়েকজন হলি আর্টিজান থেকে বেরিয়ে আসেন।
এরপর ২ জুলাই হাসনাত ও তাহমিদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ। ৬ জুলাই কাউন্টার টেররিজম বিভাগের প্রধান মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের কাস্টডিতে কেউ নেই। চারজনকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে দুজন রেস্তোরাঁর কর্মী ও দুজন জিম্মি দশা থেকে বেঁচে ফিরেছেন।’
এরপর থেকে হাসনাত ও তাহমিদের নিখোঁজ থাকা এবং তাঁদের নিয়ে বিতর্কের পর্ব শুরু হয়। মাস খানেক পর ৪ আগস্ট দুজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার গুলশান ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার রাস্তা থেকে এই দুজনকে সন্দেহজনক আচরণের কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবশ্য এর আগে থেকেই হাসনাত ও তাহমিদ গুলশান হামলার ঘটনায় যুক্ত আছেন কি নেই, এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়। ৭ ও ৮ আগস্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমে হাসনাত ও তাহমিদের তিনটি ছবি প্রকাশিত হয়। ওই সব ছবিতে হাসনাত ও তাহমিদকে জঙ্গি হামলার পর হলি আর্টিজানের ছাদে জঙ্গি রোহান ইমতিয়াজের সঙ্গে বিভিন্ন ভঙ্গিতে দেখা যায়। ছবিতে তাহমিদের হাতে পিস্তল দেখা গেছে। এসব ছবি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর হাসনাত ও তাহমিদকে নিয়ে সন্দেহ ও বিতর্ক আরও জোরালো হয়।
এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও ৭ আগস্ট সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মোটামুটি নিশ্চিত হওয়ার পরই হাসনাত করিম ও তাহমিদ হাসিব খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে তাহমিদের পরিবার ওই ছবি তিনটি বিশ্লেষণের জন্য যুক্তরাজ্যভিত্তিক শরীরি ভাষা বিশেষজ্ঞ ইন্ডিয়া ফোর্ডের কাছে পাঠায়। ৯ আগস্ট তাহমিদের পরিবারের পক্ষ থেকে শরীরি ভাষা বিশেষজ্ঞের দেওয়া প্রতিবেদনের কথা গণমাধ্যমকে জানানো হয়। ওই প্রতিবেদনে ইন্ডিয়া ফোর্ড বলেছেন, তাহমিদ যে ঘটনার নির্দোষ শিকার তা ছবি তিনটিতে স্পষ্ট। তাহমিদের শরীরের নড়াচড়ায় সেই সমস্ত চিহ্নগুলো স্পষ্ট ছিল, যা মানুষ বিপন্ন বোধ করলে, চাপে পড়লে এবং জীবন নিয়ে চরম ভয়ের মধ্যে থাকলে প্রকাশ পায়।
আর ছবিতে জঙ্গি রোহান ইমতিয়াজের পেছনে হাত দিয়ে বুক টান টান করে দাঁড়ানোর ভঙ্গিটি ব্যাখ্যা করে ইন্ডিয়া ফোর্ড বলেছেন, তাঁর দাঁড়ানোর মধ্যেই আত্মবিশ্বাসের ছাপ ছিল, যাতে ধরে নেওয়া যায় পরিস্থিতি ছিল তাঁর নিয়ন্ত্রণে।
আর হাসনাত করিমের মাথা নিচু করে হাঁটার ভঙ্গি ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, স্পষ্টতই তিনি কারও নির্দেশ অনুসরণ করছিলেন। হাসনাত ও তাহমিদ দুজনই মাথা নিচু করে মাটির দিকে তাকিয়ে হাঁটছিলেন। হাঁটার এ ভঙ্গিতে ভীতি ও বিপন্নতাই প্রকাশ পেয়েছে।
এ অবস্থায় গত শনিবার হাসনাত করিমকে মূল মামলায় গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেয় তদন্তকারী সংস্থা। আর তাহমিদকে ৫৪ ধারায়ই আবার রিমান্ডে নিয়েছে।
দুই তরুণীর জবানবন্দি: হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দুই তরুণী ফায়রুজ মালিহা ও তাহানা তাসমিয়া সাক্ষী হিসেবে গতকাল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এর মধ্যে ফায়রুজ মালিহা ঢাকা মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ জামানের কাছে এবং তাহানা তাসমিয়া ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত সিকদারের কাছে জবানবন্দি দেন।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মালিহা তাঁর জবানবন্দিতে বলেছেন, তাঁর বন্ধু তাহমিদ কানাডা থেকে দেশে আসার পর তাঁকে ফোন করেন। এরপর তাঁরা দেখা করতে চান। বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি ১ জুলাই দুপুরে বান্ধবী তাহানার গুলশানের বাসায় আসেন। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর ওই বাসার নিচে এসে ফোন করেন তাহমিদ। ফোন পেয়ে মালিহা ও তাহানা নেমে আসেন এবং তাহমিদের সঙ্গে হলি আর্টিজানে যান।
২ জুলাই সকালে কমান্ডো অভিযানে যে ১৩ জিম্মি মুক্ত হন, তাঁদের মধ্যে মালিহা ও তাহানাও ছিলেন।
হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনায় এর আগে আরও নয়জন আদালতে জবানবন্দি দেন। তাঁরা হলেন হলি আর্টিজানের কর্মী আল-আমিন চৌধুরী, মিরাজ হোসেন, রাসেল মাসুদ, বাবুর্চি মো. শাহিন, শাহরিয়ার, তুহিন, শিশির, রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া ভারতীয় নাগরিক সত্য প্রকাশ এবং মেট্রোরেল প্রকল্পের পরামর্শক জাপানিদের গাড়িচালক বাসেদ সরদার।

basic-bank

Be the first to comment on "হাসনাতের জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে পুলিশ"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*