নিউজ ডেস্ক : সাম্প্রতিক বন্যায় ১৭টি জেলার প্রকৃত দুঃস্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত তিন লাখেরও বেশি পরিবারের তিন মাসের খাবারের যোগান দেবে সরকার। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এজন্য ব্যয় হবে ১৮ হাজার ৫৭০ মে. টন ভিজিএফ চাল। এই বন্যায় ৩ লাখ ৯ হাজার ৪৮৭টি দুঃস্থ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় চিহ্নিত করেছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এসব পরিবারকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এর আওতায় প্রতিটি পরিবার পাবে মাসিক ২০ কেজি করে চাল।
মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এতে সভাপতিত্ব করেন। সভায় সচিব শাহ কামাল, দুর্যোগ ও ত্রাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ উদ্দিনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, আপাতত তিন মাসের জন্য দুঃস্থদের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুই লাখ পরিবারকে সরকার নিজ খরচে ঘর করে দেবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সবসময়ই অসহায় মানুষের পাশে ছিল এবং থাকবে। তিন মাস কেন যতদিন প্রয়োজন হয়, সরকার বন্যা কবলিত মানুষকে সহায়তা দিয়ে যাবে।
সচিব শাহ কামাল জানান, যেসব পরিবারে নারী প্রধান, যে পরিবারে প্রতিবন্ধী রয়েছে এবং যে পরিবারের প্রধানের বয়স ৬৫ বছরের ওপরে- এমন ৪৭ হাজার পরিবারকে ঘর করে দেবে সরকার। এ জন্য ৫০ হাজার ঢেউটিন ও ১৫ কোটি টাকার বরাদ্দ ছাড় করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বন্যা কবলিত ১৭ জেলা ইতিমধ্যে মন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। সরজমিনে পরিদর্শন এবং জেলা প্রশাসকদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিদর্শনকালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জনসাধারণের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে এ মন্ত্রণালয় হতে বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ১৪টি জেলার ১৭ হাজার ৩১৭ পরিবারকে পরিবার প্রতি ৩ হাজার টাকা করে মোট ৫ কোটি ১৯ লাখ ৫১ টাকা দেয়া হয়েছে। এদিকে আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সারাদেশে ৯৯ হাজার ১৩০ মে. টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হচ্ছে – সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, জামালপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, টাংগাইল, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জ ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ।

Be the first to comment on "‘বন্যার্ত তিন লাখ পরিবারকে তিন মাস খাওয়াবে সরকার’ : মায়া"