নিউজ ডেস্ক : আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে পুরো দেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে এবং সরকার বাংলাদেশকে ভারতের হাতে উজাড় করে দিচ্ছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। আজ শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মলেন এই দাবি করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এ সময় ভারতীয় হাই কমিশনারের সারদা পুলিশ একাডেমি পরিদর্শন নিয়েও প্রশ্ন তুলে সরকারের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা উন্মুক্ত করার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ করা হয়। রিজভী বলেন, “এটি কীসের আলামত? দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করছেন বাংলাদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত বর্তমান সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠ একটি দেশের কূটনীতিকরা। ”
তিনি আরও বলেন, “সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য প্রভুদের কাছে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদেশি কূটনীতিকের পরিদর্শন কি অজানা চুক্তির বর্হিপ্রকাশ?”
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাও এর আগে বাংলাদেশের ৬৩ জেলা ভ্রমণ করেছেন, তখন বিএনপি এ ধরনের সন্দেহ প্রকাশ করেনি কেন? এ প্রশ্ন করা হলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “দেখুন, সেটা ব্যক্তিগত সফর। আর অন্য দেশ হত, সেটাও একটা কথা ছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো, পুলিশ একাডেমি বা অন্যান্য জায়গাগুলোতে যদি একটি বিশেষ দেশের কূটনীতিকরা বার বার যেতে থাকেন- তাহলে প্রশ্ন দেখা দিতেই পারে। ”
তিনি বলেন, “সামগ্রিকভাবে মনে হচ্ছে আমাদের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানকে পার্শ্ববর্তী দেশের এক্সটেনশনে পরিণত করার উদ্যোগ চলছে। প্রতিবেশী দেশকে খুশি করার জন্য নানা উপহারে ভূষিত করা হচ্ছে রাষ্ট্রাচারের প্রকরণ অমান্য করে। আর এর বিনিময়ে বাংলাদেশের প্রাপ্তি হচ্ছে লবডঙ্কা। ”
বিএনপির এই নেতা বলেন, “ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত দ্রব্যসহ ৬টি পণ্য রপ্তানি হতো। একতরফাভাবে বাংলাদেশের পাট ও পাট পণ্যের ওপর ভারতের অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপের ফলে ভারতে পাট রপ্তানি বন্ধ হয়ে পড়ছে। গত ৫ জানুয়ারি ভারত সরকার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি আটকে গেছে। এটি নিয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। উল্টো সরকার হাজার হাজার কোটি ব্যয় করে সড়ক-মহাসড়ক তৈরি করে প্রতিবেশি দেশের পণ্য পরিবহনে সুবিধা করে দিচ্ছে। ”
তিনি আরও বলেন, “মোংলা ঘসিয়াখালি নৌ রুট দিয়ে যাতে ভারত সহজে পণ্য যাতায়াত করতে পারে সে জন্য গত সপ্তাহে ৭০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে এ সরকার। ”
এ ছাড়াও রিজভী দাবি করেন, “নাজেহাল করতেই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রতি সপ্তাহে একবার অথবা দুই বার আদালতে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। এটা সরকার প্রধানের প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। ”
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “যারা এই নাজেহালের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকছেন, তাদের উপলব্ধি করা উচিৎ, এ সরকারই শেষ সরকার নয়। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, কোটি কোটি মানুষের নেত্রী খালেদা জিয়ার সাথে এহেন আচরণ অসদাচরণেরই শামিল বলেই আমরা মনে করি। ”
সংবাদ সম্মলেন অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কেন্দ্রীয় নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, এম এ মালেক, আসাদুল করীম শাহিন, তাইফুল ইসলাম টিপু ও মনির হোসেন।

Be the first to comment on "‘ক্ষমতায় থাকার জন্য গোপনীয়তা উন্মুক্ত করে দিচ্ছে সরকার’"