নিউজ ডেস্ক : নড়াইলের কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ঝটিকা পরিদর্শন করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল। পরিদর্শনকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার প্রভাষ কুমার দাশের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও সেবিকাদের বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ভূক্তভোগীরা।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে দুদক কমিশনার এ.এফ.এম আমিনুল ইসলাম হিরু’র নেতৃত্বে একটি দল কালিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শন করেন। এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত ছিলেন না। কর্মরত চিকিৎসক ডাক্তার খান শাহরিয়ার ও শাহেদুর রহমান সাগর দুদক দলের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। তারা বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রভাষ কুমার দাশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে রেখেছেন। প্রতি সপ্তাহের সোমবার থেকে বুধবার তিনদিন কর্মস্থল ত্যাগ করে নিজ বাড়ি খুলনায় চলে যান। হাসপাতালটিতে রামরাজত্ব কায়েম করতে তিনি নানা কায়দায় অপছন্দের ডাক্তারদের বদলি করে দিয়েছেন। যে কারণে ২৯ জন চিকিৎসকের স্থলে আছেন মাত্র ৪ জন। বাকি ২৫টি পদই শূন্য। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অপকর্মের বাঁধা হওয়ার কারণে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার তুষার কুমার পোদ্দারকে বদলী করিয়েছেন। তার ভয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। ওটি বয় আলমগীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাসপাতালের কর্মচারীদের নানাভাবে হয়রানি করেন। একটি লোন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করলে,দিনের পর দিন ঘুরিয়ে তা দেননি। ফার্মাসিষ্ট আশিষ কুমার বাগচি অভিযোগ করে বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অসদাচরণ ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে এ হাসপাতালে ডাক্তাররা টিকতে পারেনা। দুদক দলের পরিদর্শনের দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতেই অন্যদিনের মতো স্বঘোষিত ছুটিতে ছিলেন। এ সময় চিকিৎসা নিতে আসা সালামাবাদ ইউপি সদস্য জয়বাংলা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপরিচ্ছন্নতা ও কর্মরত সেবিকাদের দৌরাত্ম এবং রোগীদের নিকট থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। পরিদর্শন শেষে দুদক কমিশনার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওই সকল দূর্নীতি ও অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করেন। পরিদর্শন দলে আরো ছিলেন দুদকের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ড. মোঃ আবুল হাসান, প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক মনিরুজ্জামান, যশোর অঞ্চলের উপ-পরিচালক জাহিদ হোসেন, উপ-পরিচালক রবিউল ইসলাম ও কালিয়ার ইউএনও মোঃ কামরুল ইসলাম। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শন শেষে দুদক কমিশনার নড়াইল জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি শাহীদুল ইসলাম শাহী সহ অন্যান্য সাংবাদিকদেও সাথে কথা বলেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার প্রভাষ কুমার দাশের বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, ডাক্তার স্বল্পতাসহ নানা অনিয়ম ও সমস্যা তিনি জেনেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজির সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
Be the first to comment on "নড়াইলের কালিয়া হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের তদন্তে দুদক"