নিউজ ডেস্ক : অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। বিশ্বরোডের পাশে ময়লা-আবর্জনা। বাতাসে ধুলা-বালি উড়ছে। এর মধ্যেই টেবিলে সারি সারি সাজিয়ে রোদে শুকানো হচ্ছে ভ্রাম্যমান কারখানায় তৈরী কাঁচা সেমাই। আবার পোড়া মবিলে ভাজা হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই। সামনে ঈদ। তাই সেমাই তৈরিতে ব্যস্ত পাবনার বেড়া উপজেলার কাশীনাথপুরের কারখানাগুলো। যেন কোনো নিয়মনীতি মানার সময় নেই তাদের। এগুলো দেখে কারো বোঝার উপায় নেই এগুলো ভেজাল নাকি আসল।
ঈদকে সামনে রেখে পাবনার কাশীনাথপুরসহ আশপাশের বেশ কিছু এলাকায় গড়ে উঠেছে সেমাই তৈরির ভ্রাম্যমান কারখানা। অস্বাস্থ্যকর এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে এসব সেমাই তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এসব কারখানার কোনটিরই বিএসটিআই’র অনুমোদন নেই। এমন কি এসব কারখানার মালিকেরা বিএসটিআই’র ধারেকাছেও যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। এদিকে ঈদ উপলক্ষে বিএসটিআই’র অসাধু কর্মকর্তারা ও স্যানেটারী ইন্সপেক্টররা এসব কারখানা থেকে বাড়তি আয় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অত্যন্ত নিন্মমানের ময়দা, খাবার সোডা, ভেজাল সয়াবিন তেল, ডালডা ইত্যাদি উপকরণ দিয়ে তৈরি হচ্ছে সেমাই, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পোড়া মবিল দিয়ে ভাজা হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই। আবার পচা ও নিন্মমানের ময়দা দিয়ে তৈরি হচ্ছে শুকনো সেমাই।
জানতে চাইলে কাশীনাথপুরের স্থানীয় চিকিৎসক ডাঃ আমিরুল ইসলাম সানু বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব সেমাই খেয়ে পেটের পীড়া, ডায়রিয়াসহ নানা রোগ হতে পারে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হতে পারে শিশুরা। জন্ডিস, টাইফয়েডসহ অন্যান্য পানিবাহিত রোগও দেখা দিতে পারে। তাই রাস্তার উপর তৈরি সেমাই বর্জন করাই উত্তম।
ভ্রাম্যমান সেমাই কারখানার মালিক রমজান আলীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আগুনের হিটে সেমাই আর অস্বাস্থ্যকর থাকে না। বড় বড় কোম্পানীর সেমাই আর আমার কারখানার সেমাইয়ের মধ্যে কোন তফাত নাই।

Be the first to comment on "বেড়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ঈদের সেমাই"