নিউজ ডেস্ক : দীপা পারলেন না এবারের অলিম্পিকে ভারতকে প্রথম পদক এনে দিতে। ছবি: রয়টার্সনিজের সর্বোচ্চটাই ঢেলে দিয়েছিলেন দীপা কর্মকার। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের এই বাঙালি জিমন্যাস্ট দেশকে অলিম্পিক পদক এনে দিতে ছিলেন বদ্ধপরিকর। জিমন্যাস্টিকসের মঞ্চের কসরতে চোখে চোখ রেখে লড়েছেন প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুহূর্তের ভুল তাঁর পদক-স্বপ্নকে ঠেলে দিয়েছে দূর-দিগন্তে। সোনা, রুপা কিংবা ব্রোঞ্জ নয়; দারুণ করেও দীপাকে শেষ পর্যন্ত সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে আটজনে চতুর্থ হয়েই।
কোনো বিদেশি প্রশিক্ষক তাঁর ছিল না। ছিল না আধুনিক সুযোগ–সুবিধা। সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় যে বিশ্বজয়ের কাছাকাছি চলে যাওয়া যায়, সেটাই করে দেখালেন এই বঙ্গকন্যা। আরেকটু হলেই ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে জায়গা করে নিতেন মিলখা সিং কিংবা অভিনব বিন্দ্রাদের সঙ্গে। কিন্তু পারেননি। তবে দীপা যা দেখালেন, তাতেই ভারতীয়দের মনের মণিকোঠায় চিরস্থায়ী জায়গাটা নিশ্চিত হয়ে গেছে তাঁর।
ব্রোঞ্জটা প্রায় এসেই গিয়েছিল। যে বিভাগটা তাঁর শক্তির জায়গা, সেই প্রোদুনোভাতেই করে ফেলেছেন গড়বড়। বাছাইপর্বে এই প্রোদুনোভাতেই সবচেয়ে বেশি স্কোর ছিল দীপার। কিন্তু চূড়ান্ত লড়াইয়ে একটি ভুলই শেষ করে দিল সবকিছু। ল্যান্ডিংয়ের সময় প্রায় পড়ে যেতে বসেছিলেন। এতেই পয়েন্ট যায় কমে।
দীপার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এই মুহূর্তে জিমন্যাস্টিকসের দুই সেরা তারকা—যুক্তরাষ্ট্রের সিমোন বাইলস ও রাশিয়ার মারিয়া পাসেকা। বাইলস আর পাসেকাই জিতেছেন সোনা আর রুপা। ব্রোঞ্জ জিতেছেন স্টেইনগ্রুবার। তৃতীয় স্থান অধিকারীর সঙ্গে তাঁর পয়েন্টের ব্যবধান মাত্রই ০.১৫।
মনে আফসোস থাকলেও ভেঙে পড়েননি দীপা। বলেছেন, ‘যা করেছি, যথেষ্ট ভালোই করেছি। অলিম্পিকে এর চেয়ে বেশি কিছু করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। বিদেশে, আধুনিক সুযোগ–সুবিধায় অনুশীলন করতে পারিনি। যা করেছি, দেশেই আমার স্যারের কাছেই। আজ যারা পদক জিতল, তারা সবাই চার-পাঁচ বছর ধরে কেবল এই ইভেন্টের জন্যই অনুশীলন করে আসছে।’ মিলখা সিং কিংবা বিন্দ্রাদের পাশে বসতে পারেননি। এ জন্য কোনো আফসোস নেই তাঁর। বললেন, ‘দয়া করে এই মানুষগুলোর সঙ্গে আমার নাম নেবেন না। আমি এখনো এই মানুষগুলোর কাতারে যেতে পারিনি। যদি কোনো দিন অলিম্পিকে পদক জিততে পারি, তবেই ওনাদের সঙ্গে আমার নাম নেবেন।’
দীপার কণ্ঠে যেন শোনা গেল আগামীর প্রত্যয় আর একরাশ প্রতিজ্ঞা।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, আনন্দবাজার পত্রিকা
অধরাই রইল বাঙালি মেয়ের অলিম্পিক–পদক

Be the first to comment on "অধরাই রইল বাঙালি মেয়ের অলিম্পিক–পদক"