শিরোনাম

ক্ষমা চাননি নিজামী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত মতিউর রহমান নিজামী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করেননি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তোড়জোড়ের মধ্যে মঙ্গলবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে মন্ত্রী একথা জানিয়েছেন।

আসাদুজ্জামান কামাল একইসঙ্গে বলেছেন, ক্ষমা না চাওয়ায় নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে নির্বাহী আদেশ কারা কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে। স্বজনদের ডেকে পাঠানো এবং কারাফটকে নিরাপত্তা জোরদারের মধ্যে মঙ্গলবার নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ইঙ্গিত মিললেও কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দিনভর পাওয়া যাচ্ছিল না।

রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় এই রাতেই দণ্ড কার্যকরের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর কবির সন্ধ্যায় কারা অভ্যন্তরে যাওয়ার পরপরই কারাগারের ভেতরে-বাইরে তৎপরতা বেড়ে যায়।

এর মধ্যে জামায়াত আমিরের স্বজনদের দেখা করতে ডেকে পাঠানো হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে আসামিকে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়ে থাকে।

নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় গত সোমবার প্রকাশের পর দণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়।

শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগই ছিল এই যুদ্ধাপরাধীর। তিনি ক্ষমা না চাইলে দণ্ড যে কোনো সময় কার্যকর হবে বলে মঙ্গলবার দুপুরেই জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর মধ্যে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল ইকবাল হাসান এবং কারা উপ মহাপরিদর্শক গোলাম হায়দার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘুরে আসার খবর আসে।

তারা কারাগার সংলগ্ন কারা অধিদপ্তরে ফেরার পর বিকাল ৪টার দিকে একটি ব্যাগ নিয়ে জ্যেষ্ঠ কারাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর কবির যান কারা অধিদপ্তরে।

এক ঘণ্টা পর তিনি ওই ব্যাগটি নিয়ে পুনরায় কারা অভ্যন্তরে ঢোকার পরপরই গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে আনা জল্লাদ রাজুকে কারাফটক দিয়ে ঢোকাতে দেখা যায়।

কারা কর্মকর্তারা জানান, নিজামীর দণ্ড কার্যকরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশ নিয়েই ঢোকেন জাহাঙ্গীর কবির।

কারাধ্যক্ষ ঢোকার পরপরই কারাফটক এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বেড়ে যায়। ফটকের সামনে র‌্যাবের একটি দল বেষ্টনি তৈরি করে, তার সামনে পুলিশ সদস্যরা আরেকটি বেষ্টনি তৈরি করে।

প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্যকে কারাগারের বাইরে মোতায়েন রয়েছেন। র‌্যাবের সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের তৎপরতাও দৃশ্যমান।

সাড়ে ৭টার দিকে কারাগারের সামনের সব দোকানপাট বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এরপর মানুষের চলাচলও সীমিত হয়ে যায়।

তার ১৫ মিনিট পর নিজামীর স্বজনরা তিনটি গাড়িতে করে কারাফটকে উপস্থিত হন।

দোকানপাট বন্ধের আগেই নাজিমউদ্দিন সড়কে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনের সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

চকবাজারের হাজী সেলিম টাওয়ার সামনে রাস্তায়, জেলখানার উত্তর গেটে মাকুর শাহ মাজারের সামনে, মৌলভীবাজার মোড়ে তিনটি ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, “নিজামীর ফাঁসিকে কেন্দ্র করে কারাগারের সামনে সাংবাদিক, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ অনেক মানুষ জড়ো হচ্ছে, তাই নিরাপত্তার স্বার্থে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি চাই- মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের তোড়জোড়ের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বাইরে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান থেকে জানানো হচ্ছে এই দাবি। ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি চাই- মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের তোড়জোড়ের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বাইরে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান থেকে জানানো হচ্ছে এই দাবি। ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

কারাগারের সামনে বহু মানুষ ভিড় করেছে। নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারাও রয়েছেন সেখানে।

রিভিউ খারিজের রায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি নিজামীকে সোমবার শোনানো হয় বলে কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার রিভিউয়ের রায় খারিজের পরদিন কাশিমপুর কারাগারে নিজামীর সঙ্গে দেখা করে এসেছিলেন পরিবারের সদস্য। এরপর রোববার তাকে ঢাকা কারাগারে আনা হয়।

বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনা, নির্দেশনা ও নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে একাত্তরের আলবদর নেতা নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে এই বছরের ৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগের রায়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রাখা হয়। তা পুনর্বিবেচনায় নিজামীর আবেদন গত ৫ মে খারিজ হয়ে যায়।

ওই রায় সোমবার প্রকাশের পর শুরু হয় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া।

basic-bank

Be the first to comment on "ক্ষমা চাননি নিজামী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*