শিরোনাম

৬ দশকে ডেঙ্গু রোগী ৩০ গুণ বৃদ্ধি : ভ্যাকসিন চালুর সুপারিশ

নিউজ ডেস্ক: বিশ্বে বিগত ৬ দশকে মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৩০ গুণ। ফলে এ রোগের আগাম প্রতিরোধে বিশ্বের ডেঙ্গুপ্রবণ দেশগুলোতে ডেংভ্যাক্সিয়া (সিওয়াইডি টিডিভি- CYD-TDV) নামক ডেঙ্গু ভ্যাকসিন চালুর সুপারিশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দ্য হু স্ট্রাটেজিক অ্যাডভাইজারি গ্রুপ অব এক্সপার্টস্ (এসএজিএ) বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বে বিগত ৬ দশকে মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৩০ গুণ বেড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশে উদ্বেগজনকভাবে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে রোগ প্রতিরোধে নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন থাকা জরুরি হয়ে পড়েছে।

একইসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ২০১২ থেকে ২০২০ সাল মেয়াদি চলমান গ্লোবাল ডেঙ্গু প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল স্ট্রাটেজি সময়কালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভ্যাকসিন অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়াবে।

জানা যায়, বিশ্বের মোট ১২৮টি দেশের প্রায় ৩৯কোটি লোক প্রতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে মাত্র ৫ লাখ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। এডিস মশা এ রোগের বাহক। তবে ডেঙ্গু ছাড়াও চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার ও জিকা রোগেরও বাহক এডিসমশা।

এছাড়া ডেঙ্গুর নানা প্রকারভেদের মধ্যে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার মারাত্মক। ১৯৫০-এর দশকে ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডে প্রথম এ রোগ শনাক্ত হয়। বর্তমানে এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে শয্যাশায়ী এমনকি মৃত্যু হচ্ছে। শিশুরা এ রোগে বেশি ভুগছে।

২০১৫ সালে বিশ্বের ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল অনেক বেশি। অনুমিত পরিসংখ্যান অনুসারে, ফিলিপাইনে ১ লাখ ৬৯ হাজার ও মালয়েশিয়ায় ১ লাখ ১১ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। ওই বছরে শুধুমাত্র ব্রাজিলেই ১৫ লাখ মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন, যা ছিল ২০১৪ সালের তুলনায় তিনগুণ বেশি।

২০১৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২০ লাখ ৩৫ মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন বলে জানা যায়। তন্মধ্যে ১০ হাজার ২শ’ রোগী ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত ডেঙ্গু রোগী বলে শনাক্ত হয়। এছাড় প্রায় ১২শ’ রোগীর মৃত্যু হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপে ১৮১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হন।

শনিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েব সাইটে ডেঙ্গু ভ্যাকসিন চালুর সুপারিশের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। যেখানে আরো বলা হয়, গত বছরের ডিসেম্বরে মেক্সিকোতে সানোফি পাস্তর কোম্পানি উৎপাদিত প্রথমবারের মতো ডেংভ্যাক্সিয়া নামক ভ্যাকসিন চালু করা হয়। তিনধাপে শূন্যদিন, ছয়মাস ও এক বছর সময়ে ভ্যাকসিন প্রদান করে কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। ডেঙ্গু প্রবণ দেশগুলোতে ৯ থেকে ৪৫ বছরের সকলেই এ ভ্যাকসিন নিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: জাগো নিউজ

basic-bank

Be the first to comment on "৬ দশকে ডেঙ্গু রোগী ৩০ গুণ বৃদ্ধি : ভ্যাকসিন চালুর সুপারিশ"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*