শিরোনাম

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট দুর্নীতির দায়ে অপসারিত

নিউজ ডেস্ক : দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন-হাইকে দুর্নীতির দায়ে অপসারণ করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। তিন মাস আগে পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে প্রেসিডেন্ট পার্ককে অভিশংসনের যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল,শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত তা বহাল রাখে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় সাবেক সেনাশাসক পার্ক চুং-হির মেয়ে পার্ক জিউন-হাই দক্ষিণ কোরিয়ায় গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান, যাকে অভিশংসিত হতে হল।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই রায়ের ফলে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পুরোপুরি অপসারিত হলেন ৬৫ বছর বয়সী পার্ক।
সংবিধান অনুযায়ী, এখন ৬০ দিনের মধ্যে নতুন একজনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করতে হবে দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকদের।
অভিশংসিত হওয়ায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়মুক্তির সুযোগও হারাচ্ছেন পার্ক। তাকে এখন দুর্নীতির দায়ে বিচারের মুখোমুখি করা যাবে।
বিবিসি জানিয়েছেন, শুক্রবার আদালতের রায়ের পর সেউলের বিভিন্ন সড়কে উল্লাসে মেতে ওঠেন পার্কের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনকারীরা।
অন্যদিকে সমর্থকরা আদালতের বাইরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। পার্কের ছবি নিয়ে কাঁদতে দেখা যায় তাদের অনেককে। পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তিও হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানায়, বিক্ষোভের মধ্যে অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের একজন মারা গেছেন পুলিশ ভ্যান থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান।
সায়েনুরু পার্টির শীর্ষ নেতা পার্ক জিউন-হাই ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার একাদশ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তিনিই প্রথম নারী, যিনি রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
দায়িত্ব নেওয়ার সময় তুমুল জনপ্রিয়তা থাকলেও ২০১৪ সালে সেউলে ফেরিডুবির ঘটনায় ৩০৪ জনের মৃত্যুর পর তার এবং দলের জনপ্রিয়তা কমাতে থাকে। সরকার তড়িৎ ব্যবস্থা না নেওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে বলে তখন বিরোধীদলগুলো অভিযোগ করেছিল।
ব্যক্তিগত লাভের লক্ষ্যে এক পুরোনো বন্ধুকে সুবিধা পাইয়ে দিতে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহার করেছেন এমন অভিযোগে গতবছরের মাঝামাঝি সময়ে সংসদে ও রাজপথে পার্কের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়।
এক পর্যায়ে তিনি পদত্যাগ করতে চাইলেও বিরোধীরা তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব আনে।গতবছর ৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার পার্লামেন্টে ওই প্রস্তাব ২৩৪-৫৬ ভোটে অনুমোদন পায়।
নিজ দলের পার্লামেন্ট সদস্যরাও সেদিন পার্কের অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেন বলে ধারণা করা হয়।
পার্লামেন্টের অভিশংসনের পর পার্কের ক্ষমতা চলে যায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। শুক্রবার নয় সদস্যের সাংবিধানিক আদালত অভিশংসনে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

basic-bank

Be the first to comment on "দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট দুর্নীতির দায়ে অপসারিত"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*