নিউজ ডেস্ক: ‘মহাভারতে’ এই প্রশ্ন নিয়ে বেশ তোলপাড় হয়েছিল বলেই জানা যায়। এই বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল ভীষ্ম এবং যুধিষ্ঠীরের মধ্যে। জ্যেষ্ঠ পাণ্ডব প্রশ্নটি করেছিলেন শরশয্যায় শায়িত পিতামহকে।
গ্রিক পুরাণে একটা কাহিনি রয়েছে। দেবরাজ জিউস এবং দেবরাণি হেরার মধ্যে একবার এই নিয়ে তর্ক হয়, সঙ্গমে কার বেশি সুখ— পুরুষ না নারী? তর্কের মীমাংসা করতে তাঁরা তাইরেসিয়াস নামক এক দার্শনিক এবং ভবিষ্যকথকের দ্বারস্থ হন। তাইরেসিয়াস পড়েন ফাঁপরে। কাকে খুশি করবেন, স্থির করতে না পেরে খুব গেলমেলে একটা উত্তর দেন তিনি। জিউস এবং হেরা বুঝতে পারেন, তাঁদের ধোঁকা দিয়েছেন তাইরেসিয়াস। হেরা তাঁকে অন্ধত্বের অভিশাপ দেন। টাইরেসিয়াসকে দীর্ঘ অন্ধত্বের পর্ব কাটাতে হয়।
এই প্রশ্ন এ দেশের পুরাণে যে ওঠেনি, তা নয়। খোদ ‘মহাভারতে’ এই প্রশ্ন নিয়ে বেশ তোলপাড় হয়েছিল বলেই জানা যায়। এই বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল ভীষ্ম এবং যুধিষ্ঠীরের মধ্যে। জ্যেষ্ঠ পাণ্ডব প্রশ্নটি করেছিলেন শরশয্যায় শায়িত পিতামহকে। ভীষ্ম তাঁকে রাজা ভঙ্গাশ্যনের কাহিনি শোনান। এই কাহিনি অনুযায়ী, দেবরাজ ইন্দ্রের অভিশাপে ভঙ্গাশ্যন নারীতে পরিণত হন। তিনি একমাত্র ব্যক্তি, যিনি পুরুষ এবং নারী— উভয়ের সঙ্গম-সুখের অনুভূতি কেমন, তা জানতেন। পুরুষ ও নারী উভয় অবস্থাতেই তিনি সন্তানলাভ করেন। সেই সব সন্তানদের একাংশ তাঁকে বাবা ও একাংশ মা বলে সম্বোধন করত। ইন্দ্র তাঁকে যখন পুনরায় পুরুষ হতে অনুরোধ করেন, তখন তিনি নারী হিসেবেই থেকে যেতে চান। কারণ হিসেবে তিনি জানান, সঙ্গমে নারীর সুখই অধিক।

Be the first to comment on "মিলনে কার সুখ বেশি"