নিউজ ডেস্ক: অবসরের পর সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন ও আপিল বিভাগের বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর কাছে রায় লেখার অপেক্ষায় থাকা ১৬৮টি মামলা পুনঃশুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
আগামী ৫ মে আপিল বিভাগের কার্যতালিকা অনুসারে (কজলিস্ট) এই মামলাগুলোর পুনঃশুনানি শুরু হবে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সিদ্ধান্তক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির একান্ত সচিব মো.আনিসুর রহমান বলেন, ‘অবসরের পর রায় লেখার জন্য আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত দুই বিচারপতির কাছে থাকা ১৬৮টি মামলা পুনঃশুনানির সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। এই মামলাগুলো ৫ মে থেকে আপিল বিভাগের কার্যতালিকা অনুসারে পুনঃশুনানি শুরু হবে।’
এদিকে ১৬৮টি মামলা পুনঃশুনানির বিষয়ে প্রধান বিচারপতির এই সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
গত বছরের ১৭ জানুয়ারি অবসরে যান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন। এ ছাড়া একই বছরের ১ অক্টোবর আপিল বিভাগ থেকে অবসরে যান বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
অবসরে যাওয়া এই দুই বিচারপতির কাছে ১৬৮টি মামলা রায় লেখার জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। এর মধ্যে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর কাছে রয়েছে ১৬১টি মামলা। যদিও এই দুই বিচারপতি অবসরে যাওয়ার আগেই এসব মামলা শুনানির পর সংক্ষিপ্ত রায় দিয়েছিলেন। তাদের কাছে শুধু পূর্ণাঙ্গ রায় লেখার কাজ বাকি ছিল।
এই অবস্থায় গত ১৭ জানুয়ারি বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বাণীতে বলেন, অবসরের পরে রায় লেখা সংবিধানপরিপন্থী।
এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী গত ৮ ফেব্রুয়ারি ৬৫টি মামলার রায় ও আদেশের কপি হাতে লিখে জমা দেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তিনি আরও কিছু রায় লিখে জমা দেন।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ১৬৮টি মামলা পুনঃশুনানির সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

Be the first to comment on "পুনঃশুনানি হবে নিষ্পত্তি হওয়া ১৬৮ মামলার"