নিউজ ডেস্ক : শুধু বাংলাদেশ নয়, আসেপাশের দেশগুলোর সঙ্গে একটা সু-সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার জন্য সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে চলমান ৯৮তম ও ৯৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক সহযোগিতা আমরা বৃদ্ধি করেছি। প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে একটা যোগাযোগ স্থাপন হচ্ছে। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ আছে।’
দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গ্রাম। গ্রামের অর্থনীতিটাকে আমরা আরও শক্তিশালী ও আরও উন্নত করতে হবে। গ্রামে দারিদ্র বিমোচন করতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কর্মসূচি এবং অব-কাঠামোগত উন্নয়ন আমরা করে যাচ্ছি। শিক্ষাই হচ্ছে একমাত্র পথ যার মাধ্যমে একটি দেশকে দারিদ্র মুক্ত করা যায়।’
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হত্যা, ক্যু ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল শুরু হয়। একটি দেশে বার বার সামরিক ক্যু হয়। ১৯ বার সামরিক ক্যু হয়েছে। সামরিক অফিসার, সৈনিক নির্বিচারে তাদের হত্যা করা হয়েছে। প্রতি রাতেই ছিলো কারফিউ। এই হত্যা, ক্যু ষড়যন্ত্রের রাজনীতি আমাদের দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি করে কোন রকম ক্ষমতায় টিকে থাকা এবং ক্ষমতার পালা বদল।’
বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক দিনে ১৩ জন সচিবের চাকুরি খেলো। সামরিক বাহিনীর অবস্থা তো আরও খারাপ। প্রায় ১২ শ কর্মকর্তাকে সামরিক বাহিনী থেকে বিদায় দিয়ে দিলো।’
এমডিজি বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০০ সালে আমরা এমডিজি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমরা সরকারে আসার পর প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে আমরা বাস্তবায়নে সক্ষম হয়েছি। এবারে আমরা লক্ষ্য নিয়েছি এসডিজি। এটাও আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। এসডিজি বাস্তবায়নের উপর আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।’
দেশ গড়ার বিষয়ে করণীয় কি এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি দেশকে সঠিক ভাবে গড়ে তুলতে হলে প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যে জ্ঞান আপনারা অর্জন করবেন, সেটাই আপনারা কাজে লাগাতে পারবেন দেশ গড়ার ক্ষেত্রে। এ জন্য আমরা প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেই। সে দিকে লক্ষ্য রেখে সব ধরণের ব্যবস্থা আমরা নিয়ে থাকি। আমরা জানি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে প্রশিক্ষণ একান্তভাবে প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি এই প্রশিক্ষণ কোর্স সরকারি দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে এবং আপনারা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের সক্ষম হবেন।’
দেশের উন্নয়নের তুলনামূলক রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা কি অবস্থায় ছিলাম পাকিস্তান আমলে? তখন আমাদের কোন অধিকারই ছিলো না। বাঙালিরা ছিলো সব থেকে অবহেলিত। এই অবহেলিত বাঙালির কথাই জাতির পিতা সব সময় চিন্তা করেছেন। আজকে আমরা এই প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারের সকল ক্ষেত্রেই সকল জায়গায়ই বাঙালিরাই আছি। এমন দিন ছিলো পাকিস্তান আমলে বাঙালিদের কোনো অবস্থান ছিলো না।’
সামরিক ও বেসামরিক বিমানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই বাঙালিরা ছিলো সম্পূর্ণভাবে অবহেলিত। কেন্দ্রীয় সচিবালয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে ৬৯২ জনের মধ্যে বাঙালি অফিসার ছিলো মাত্র ৪ জন। সচিব পযায়ে কোন বাঙালি স্থান পায়নি। যুগ্ম সচিব পযন্ত মাত্র ৮জনের মতো ছিলো। সামরিক ক্ষেত্রে অবস্থা আরও করুণ। কেবল মাত্র মেজর পদ পযন্ত বাঙালী ছিলো, একজন মাত্র কর্ণেল পদ পেয়েছিলো। বাঙালীর কোন কথা বলার অধিকার ছিলো না। প্রতিটি ক্ষেত্রে বিরাট বৈষম্য ছিলো। তারা আমাদের অবহেলা করতো, মনে করতো বাঙালিরা আবার কি করবে? কিন্তু ওরাই এই বাঙালির কাছে পরাজিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধে। আমরা বিজয় অর্জন করি, আমরা বিজয়ী জাতি আজ।’
তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে ইন্টারনেট সার্ভিস। বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট উৎক্ষেপন করছি। ঘরে বসে নিজের দেশের মধ্যে যোগাযোগ এবং বিশ্বের সাথে যোগাযোগ আমরা করে দিয়েছি। ডিজিটাল সেন্টার বাস্তবায়ন করেছি। কোরবানীর গরুও কিন্তু এখন অন-লাইনে বিক্রি হয়।’
পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্ম সেতু নিয়ে একটা সমস্যা ওয়ার্ড ব্যাংকের সঙ্গে। কারণ তারা মনে করে দরিদ্র দেশ পেলেই চাপ দিয়ে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করিয়েই নিবে। দূর্নীতির প্রশ্নটা উঠলো, আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম, আমাকে দূর্নীতি দেখাতে হবে মুখে বললে হবে না। তারা প্রমাণ করতে পারেনি। আমার কথা ছিলো নিজস্ব অর্থায়নে আমরা পদ্মা সেতু করবো। তা করছি।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদিক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবপ্রমুখ।
‘প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সু-সম্পর্ক রাখতে হবে’

Be the first to comment on "‘প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সু-সম্পর্ক রাখতে হবে’"