নিজস্ব প্রতিবেদক : বিচারপতিদের নিয়ন্ত্রণ ও তাদের ওপর নগ্ন আগ্রাসন করতেই অভিশংসন আইন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টায় নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে নিতে সম্প্রতি নতুন আইন পাশ করেছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে বিচারপতিদের অভিশংসন ও অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের পরিবর্তে এখন জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত হবে। এটি স্বাধীন বিচারকার্য পরিচালনায় বাধার সৃষ্টি করবে এবং মানুষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবে।
তিনি বলেন, এ আইন পাশের মাধ্যমে সরকার পুরোপুরি বিচারপতিদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটিই ভীতিকর এবং চাপ সৃষ্টির জন্যই করা হচ্ছে। বিচারপতিরা যেন সরকারের ইচ্ছেমতো কাজ করে সেজন্যই এই আইন করা হচ্ছে। এই আইন পাশের মাধ্যমে সরকার বিচার ব্যবস্থাকে বিরোধী দলসহ গণমাধ্যম এবং গণতন্ত্রে স্বীকৃত সকল অধিকারকে আরো নিষ্ঠুরভাবে দমন করতে সক্ষম হবে।
সরকারের অনাচার ও দুর্নীতির গন্ধ বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় তারা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, সরকারের দুর্গন্ধ চেপে রাখতে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার মিডিয়াসহ সবকিছু নিয়ন্ত্রণে বেপরোয়া আগ্রাসন চালাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সমালোচনার অগ্নিবাণ থেকে নিজেদেরকে অবধ্য ও অনিন্দ রাখার জন্যই সরকারের এটি মরিয়া প্রয়াস। অপকর্ম যতোই ঢেকে রাখার অপকৌশল করেন না কেন, জনগণের নিকট আপনাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুন উর রশিদ,সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, নির্বাহী কমিটির সদস্য জামাল শরীফ হিরু প্রমুখ।

Be the first to comment on "বিচারপতিদের নিয়ন্ত্রণ করতেই অভিশংসন আইন: রিজভী"