শিরোনাম

বিয়ের আগে পরস্পরের যে পাঁচ বিষয়ে অবশ্যই জানতে হবে

নিউজ ডেস্ক : বলা হয়ে থাকে বিয়ের সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন আল্লাহ। কিন্তু এর প্রস্তুতি এবং কাজগুলো সম্পন্ন করার দায়িত্ব আল্লাহ আমাদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন বলেই ধারণা করা হয়।

সামাজিক মর্যাদা থেকে শুরু করে নানা ব্যক্তিগত খুটিনাটি মিলিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব আমাদের নিজেদের ওপরই বর্তায়।
বিয়েতে হ্যাঁ বলার আগে বর-কনে উভয়েরই উচিৎ এই পাঁচ বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ সন্ধান চালানো:
১. পারিবারিক স্বাস্থ্য এবং বংশগতি
পরিবারের স্বাস্থ্যগত ইতিহাস জানুন। ত্বকের ধরন বা অতীত দুর্ঘটনাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন। সার্জারি, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা এবং বংশগতির বিস্তারিত জানাটাও বিবেচনায় রাখতে হবে। পরিবারের সঙ্গেও বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে।
এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনো সমাজে নানা বিধি-নিষেধ জারি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মাদক দ্রব্য সেবন এবং মানসিক ট্রমার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করতে হবে।
২. অর্থনৈতকি অবস্থান
দুজনেই অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হওয়া সত্ত্বেও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য পরস্পরের অর্থনৈতিক অবস্থান খতিয়ে দেখাটা এখনো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক সময় বিয়ের সম্পের্ক ভেঙ্গে যায়। আর দাম্পত্য সম্পর্কের বেশিরভাগ সমস্যারই উৎস অর্থ। সুতরাং ভবিষ্যত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করতে ইতস্তত বোধ করবেন না। ঋণ গ্রহণের সম্ভাবনা, বিনিয়োগ, দেনা, সম্পদ এবং ঋণ প্রভৃতিদ নিয়েও আলোচনা করুন। পরস্পরের অর্থনৈতিক পটভুমি সম্পর্কে খুটিনাটি সন্ধান করার মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হবে যে আপনারা যে কোনো সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত আছেন।
৩. আইনী ঝামেলা
প্রতিটি পরিবারেরই নিজস্ব কিছু আইনী ঝামেলা থাকে। হোক তা সম্পদ বা ফৌজদারি ইস্যু সংক্রান্ত। পরিবারের কোনো সদস্য যদি কোনো ফৌজদারি মামলায় সংশ্লিষ্ট থাকেন তাহলে সে ব্যাপারে পুরোপুরি পরিষ্কার ধারণা নিতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে কোনো ভুলবুঝাবুঝি না হয়।
পুর্ব-পুরুষদের সম্পত্তি সম্পর্কিত বিষয়গুলো এবং সম্পত্তির উত্তরাধীকার সংক্রান্ত কোনো উইল থাকলে তা জানতে হবে। আর যদি কোনো ধরনের প্রাকবিবাহ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে থাকে তাহলে একজন আইনজীবি দিয়ে তা পরীক্ষা করিয়ে নিন।
৪. ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক বিশ্বাসসমূহ
পরস্পরের ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক বিশ্বাসগুলো সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা এবং বুঝ নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবং পরস্পরের ধর্মীয় মেজাজটাও পরিষ্কার করে বুঝতে হবে। মানুষ হিসেবে আমাদের সকলেই আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, শিক্ষা, ধর্ম, ভাষা এবং খাদ্যাভ্যাস দিয়ে নির্ণীত হই।

সুতরাং পরস্পরের ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক মিল, ভিন্নতা বা অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে আগেভাগেই আলোচনা করে নেওয়া উচিৎ যাতে ভবিষ্যতে আর সেসব নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব সংঘাত তৈরি না হয়। আসলে দুজনে একই ধর্মীয় বিশ্বাস লালন করা সত্ত্বেও চর্চায় তারা আলাদা হতে পারেন। সুতরাং আগেভাগেই সেসব আলোচনা করে নিলে দাম্পত্য জীবনে যে পারস্পরিক সম্মান থাকা দরকার তা সৃষ্টি হবে।

৫. আচরণগত কাঠামো
পারিবারিক অভিজ্ঞতা আমাদের ব্যক্তিগত আচরণকেও প্রভাবিত করে। যা জীবন সঙ্গি বা সঙ্গিনীর সঙ্গে আমাদের আচরণকেও প্রভাবিত করবে। সতুরাং পরস্পরের পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সঙ্গে কথা বলুন। কেননা তাদের সকলেই আপনাদের দাম্পত্য সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে। এ থেকে আপনি শিশুরা, বাবা-মা, ভাই-বোনরা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিবাহিত জীবনে যে প্রভাব ফেলে তা বুঝতে পারবেন আপনি।

আর যৌনতা এবং সন্তান জন্মদানের বিষয়েও কথা বলতে ভুলবেন না যেন। শারীরিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে সকলেই ভিন্ন ভিন্ন ধারণা এবং প্রত্যাশা লালন করেন। তবে বিয়ের পরেই এ বিষয়ে পরস্পরের পছন্দ অপছন্দগুলো উভয়েই আবিষ্কার করবেন। তথাপি বিয়ের আগে অন্তত মৌলিক বিষয়গুলো জেনে নিতে হবে।
অতীত যৌন অভিজ্ঞতার বিষয়েও দুজনকেই পুরোপুরি স্বচ্ছতা অবলম্বন করতে হবে এবং খোলাখুলি আলোচনা করতে হবে যাতে বিয়ের পরে এ নিয়ে কোনো সংঘাত তৈরি না হয়। যৌন স্বাস্থ্য এবং প্রত্যাশগুলোর পাশাপাশি সন্তান জন্মদানের বিষয়েও পরিষ্কারভাবে এবং সততার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। আর পরস্পরের পরিবর্তনশীল দেহ, প্রয়োজনীয়তা এবং পরিস্থিতির সঙ্গে আপনার মানিয়ে নিতে প্রস্তুত আছেন কিনা তাও নিশ্চিত হয়ে নিন।
সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

basic-bank

Be the first to comment on "বিয়ের আগে পরস্পরের যে পাঁচ বিষয়ে অবশ্যই জানতে হবে"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*