রাজন,লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি:
উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের কুমারডাঙ্গা বাজারে বুধবার (১৪ মে) সকাল ৭টার দিকে খাজা মোল্যা (৪৫) নামে একজন কৃষককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। নিহত খাজা মোল্যা কুমারডাঙ্গার পার ইছাখালি গ্রামের নবাব মোল্যার ছেলে।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে খাজা মোল্যা চা-খাওয়ার জন্য কুমারডাঙ্গা বাজারের রবিউলের দোকানে যান। সেখানে প্রতিপক্ষের ইতনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য শেখ পলাশ আলী ও আমেরিকা প্রবাসী কুমারডাঙ্গা গ্রামের ইউসুফ শেখ’র ছেলে ইনছান শেখ’র নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে খাজা মোল্যাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবার আওয়ামী পন্থী হওয়ায় তার পিতাসহ সকলে পলাতক থাকায় খাজা মোল্যাকে একাকী পেয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। এলাকাবাসি আরও জানান, ইতনা দক্ষীণ পাড়ার শাহিন সরদারের ছেলে বাপ্পি সরদার শেখ পলাশ আলীর অনুসারী হওয়ায় তিনিও বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে। একই গ্রামের মধ্যপাড়ার মৃত জব্বার ফকিরের ছেলে ভারত থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও বিসিএস ক্যাডারভূক্ত সরকারী কর্মকর্তা (অব:) মো: জালাল উদ্দিন (৭৭) তার প্রায় ৫০ শতাংশ জমির পাকা ধান জোর পূর্বক কেটে নেয় বাপ্পি সরদার গং। বিএনপি’র নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন গ্রামে এহেন লুটপাটে মত্ত্ব থাকায় ইতনাবাসি চরম আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের অপতৎপরতা এখনই রোধ করা না গেলে সামনে আরও বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে শংকা স্থানীয়দের।
নিহতের বোন রেখা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘শেখ পলাশ আলীসহ তার লোকজন গত বছরের ৫ আগষ্টের পর থেকে এলাকায় সন্ত্রাসী ও ত্রাসের রাম-রাজত্ব কায়েম করে চলেছে। প্রতিপক্ষের লোকজনকে ভয়ভীতি ও নাশকতার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী এবং অনেককে বাড়ি ছাড়া করে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছেন। এছাড়া পলাশ আলীসহ তার লোকজন প্রতিপক্ষের জমি, জমির ফসল ও দামী গাছ পালা জোর পূর্বক কেটে নিলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেন না। পলাশ আলী গংদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে কুমারডাঙ্গা গ্রামের শেখ আবুল হোসেন লোহাগড়া মধুমতি আর্মি ক্যাম্পসহ পুলিশ ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাননি। তিনি প্রশাসনের কাছে ভাই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চান। এ ব্যাপারে জানতে শেখ পলাশ আলীকে ফোন করেও পাওয়া যায় নাই। ফোনের সুইচ বন্দ রয়েছে।
লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আশিকুর রহমান , বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

Be the first to comment on "লোহাগড়ায় কৃষককে কুপিয়ে হত্যা"