নিউজ ডেস্ক : দু’দিনেও পরিচয় মেলেনি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে নিহত ব্যক্তির। ৩ এপ্রিল জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় পৌর কবরস্থানে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ দাফন করা হয়। এদিকে সীমান্তের গ্রামগুলোতে বন্যহাতির তান্ডব অব্যাহত রয়েছে। এতে দিনরাত চরম উদ্বেগ-আতঙ্কে সময় পার করছে গ্রামবাসীরা।
জানা যায়, শুক্রবার থেকে খাদ্যের সন্ধানে ভারত থেকে নেমে আসা ৩০/৪০টি বন্যহাতির একটি দল ঝিনাইগাতীর সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের তাওয়াকোচা, গুরুচরণ দুধনই, পানবর, বাকাকুড়া, ছোট গজনী, গান্ধিগাও, গজনী, হালচাটি, নওকুচি, রাংটিয়া, সন্ধ্যাকুড়া ও গোমড়া এলাকায় বিচরণ করছে। বন্যহাতির দলটি ক্ষেতের উঠতি ফসল, গাছের কাঠাল, কলা বাগানসহ গাছপালা খেয়ে ও দুমড়ে-মুচড়ে একাকার করে ফেলছে। হাতির দলটি দিনে ভারত সীমান্তের গহীন অরণ্যে আশ্রয় নিলেও সন্ধ্যার পর থেকেই ওইসব এলাকায় নেমে এসে তান্ডব চালিয়ে জানমাল ও ক্ষেতের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করছে। বন্যহাতির কবল থেকে জানমাল ও ক্ষেতের ফসল রক্ষায় গ্রামবাসীরা রাতজেগে পাহারা দিচ্ছে। ঢাক-ঢোল, পটকা ফাটিয়ে ও মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু যতই হাতি তাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে, ততই বন্যহাতির দল তেড়ে আসছে লোকালয়ে। এভাবেই শনিবার সকালে নওকুচি সীমান্তে বন্যহাতির আক্রমণে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই ওইসব এলাকার লোকজনের মধ্যে চরম হাতি আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে নলকুড়া ইউপির চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান জানান, বোরো মৌসুমের শুরুতেই প্রতি বছর সীমান্তবর্তী ওই গ্রামগুলোতে বন্যহাতির তান্ডব বৃদ্ধি পায়। এতে স্থানীয় অধিবাসীরা চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মাঝে পড়লেও হাতির তান্ডব থেকে রক্ষায় আজও কোন স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ কবীর হোসেন ৩ দিন ধরে ঝিনাইগাতীর সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যহাতির তান্ডবের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বন্যহাতির কবল থেকে জানমাল রক্ষায় স্থানীয় অধিবাসীদের সতর্ক করা হয়েছে।

Be the first to comment on "শেরপুর সীমান্তে বন্যহাতির তান্ডব"