নিউজ ডেস্ক : এটা এমন এক আবিস্কার যার দ্বারা বদলে যেতে পারে ক্রিকেট। বহুল আলোচিত এবং সমালোচিত ‘বোলিং অ্যাকশনের বৈধতা’ মাপার যন্ত্র আবিষ্কার করলেন পাকিস্তানের তিন ইঞ্জিনিয়ার আবদুল্লাহ আহমেদ, মোহাম্মদ জাজিব খান এবং মোহাম্মদ আসওয়াল।
তাদের আবিস্কৃত এই যন্ত্র সঠিক ভাবে নির্ভুল পদ্ধতিতে বোলিং অ্যাকশনের খুঁটিনাটি বিচার করতে সক্ষম।
আমাদের তাসকিন আহমেদ থেকে শুরু করে, পাকিস্তানের সাঈদ আজমল, মোহাম্মদ হাফিজ কিংবা সাবেক শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি মুরলিধরন- এশীয় বোলারদের মধ্যে মিল একটাই। তা হল ক্যারিয়ারের কোনো না কোনো সময় অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায়ে অভিযুক্ত হওয়া। অনেকেই নির্বাসিত হয়ে আবারও অ্যাকশনের ত্রুটি শুধরে ফিরে এসেছেন ক্রিকেট মাঠে। আবার কারোর আবার ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে গেছে
সাধারণত, আম্পায়ারদের পক্ষে খালি চোখে বোলিং অ্যাকশনের বৈধতা যাচাই করা ভীষণই কঠিন। শুধুমাত্র অনুমানের উপর নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট বোলারের নামে। আম্পায়ার রিপোর্ট জমা দিতে পারেন ম্যাচ রেফারির কাছে। তারপর আইসিসি-স্বীকৃত বায়োমেকানিক পরীক্ষাগারে বোলারের অ্যাকশন সঠিক নাকি ভ্রান্ত, তা বিচার করা হয়। পুরো বিষয়টি ভীষণই জটিল ও সময় সাপেক্ষ।
তিন পাক প্রকৌশলীর উদ্ভাবিত যন্ত্র সহজেই কয়েক মিনিটের মধ্যে বোলিং অ্যাকশনের পুরো বিশ্লেষণ করে ফেলতে পারে। যন্ত্রটির নাম ‘ক্রিকফ্লেক্স’। এর মধ্যে কয়েকটি সেন্সর থাকে। যেগুলি আবার ওয়্যারলেস অবস্থায় নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে যুক্ত করা যায় মোবাইল ডিভাইস কিংবা ডেস্কটপের সঙ্গে। ম্যাচ চলাকালীন ডেলিভারি যাচাই করার সময় সংশ্লিষ্ট বোলারের শার্টের হাতায় সহজেই এই যন্ত্রটি যুক্ত করা যায়। এরপর ডেলিভারির পরে সহজেই বৈধতা নিরুপণ করা সম্ভব হয়।
তিন প্রকৌশলীর এই গবেষণাপত্র গত বছরেই এমআইটি সম্মেলনে স্বীকৃত হয়েছে। মার্কিন এক বায়োমেকানিক সংস্থা তাদের উদ্ভাবনী যন্ত্রের পেটেন্ট নিয়েছে। এরপর আইসিসির স্বীকৃতি পেলেই সরাসরি ক্রিকেটে প্রযুক্ত হতে পারে এই আবিষ্কার। আপাতত এই যন্ত্রের দিকেই নজর ক্রিকেট বিশ্বের।

Be the first to comment on "ক্রিকেটের জন্য ৩ পাকিস্তানি প্রকৌশলীর যুগান্তকারী আবিষ্কার!"