বেপরোয়া পুলিশ ! নির্যাতনের শিকার আ’লীগ নেতা শরিফুল

বেপরোয়া পুলিশ ! নির্যাতনের শিকার আ’লীগ নেতা শরিফুল

নিউজ ডেস্ক॥  নড়াইল জেলা আওয়ামীলীগ নেতা শরিফুল ইসলাম যশোরের বসুন্ধিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এস আই ফজের আলীর পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনারী বিভাগে যন্ত্রনায় ছটফট করছেন। তার একটি পা ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। ইফতারি ও সেহরীর সময় ভাড়ার বাসার সামনে উচ্চ স্বরে মোটরসাইকেলের হর্ণ দিতে নিষেধ করায় ওই দারোগা এতবড় কান্ড ঘটিয়ে ফেলার বিষয়ে তদন্ত চলছে। এব্যাপারে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদ আবু সরোয়ার জানিয়েছেন অভিযুক্ত দারোগাকে শো’কজ করা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

সরেজমিনে গিয়ে লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ৯ জুন সন্ধায় নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের মৃত আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য শরিফুল ইসলাম ব্যবসায়ী কাজে নওয়াপড়ায় যান। সেখান থেকে বসুন্দিয়া তার বন্ধু গোপালগঞ্জ জেলার মুক্তিযোদ্ধা ওহাব মুন্সির ছেলে ঠিকাদার বিটুর ভাড়া বাসার উদ্দেশ্য রওয়ানা হন। আর বাসার সামনে পৌছালে তাদের গতি রোধ করেন বসুন্ধিয়া পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই ফজের আলী। এসআই ফজের আলী এবং বিটু একই বাসায় ভাড়া থাকেন। ফজের আলী বাসায় ফেরার সময় বিকট আওয়াজে মোটরসাইকেলের হর্ণ বাজিয়ে এলাকায় প্রচন্ড শব্দ দুষন করেন বলে আগেই বাড়ির মালিকের নিকট অভিযোগ করেছেন বিটুসহ বেশ কয়েকজন। আর এতে ক্ষিপ্ত হন এসআই ফজের আলী। বিটুর সাথে আওয়ামী লীগ নেতা শরিফুলকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। শরিফুল তাকে সংযত হয়ে কথা বলতে বললে তিনি অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার হুমকি দিয়ে পুলিশ ফাড়িতে খবর দেন। ফাড়ির এএসআই ওবায়দুর রহমান’র নের্তৃত্বে ৭জন ফোর্স ডেকে আনেন তিনি। পরে আওয়ামী লীগ নেতা শরিফুলের কাছে থাকা বৈধ পিস্তলটিকে অবৈধ পিস্তল বলে ঘোষনা দিয়ে বেধড়ক মারপিট করতে থাকেন। এক পর্যায়ে শরিফুলের একটি পা ভেঙ্গে টেনে হেঁচড়ে বসুন্ধিয়া পুলিশ ফাড়িতে নিয়ে যান তিনি। তখন ছিনিয়ে নেন তার কাছে থাকা নিজ নামীয় লাইসেন্স প্রাপ্ত আমেরিকার তৈরি পিস্তল ও নগদ ৬৭ হাজার টাকা। পরে অবশ্য টাকা ও পিস্তল ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে ফজের আলীর নির্যাতনের বিষয়টি এলাকায় জানা জানি হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষনিক যশোর পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে কোতয়ালী থানার একটি টিম পাঠান। এবং শরিফুলকে উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। আর ক্লোজ করা হয় এসআই ফজের আলীকে। চিকিৎসাধীন শরিফুল ইসলাম দাবি করেছেন ফজের আলী তার মানহানি এবং প্রচ- নোংরামি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তার ইচ্ছা ছিল তাকে হত্যা করা। তিনি যা করেছেন তা ভোলার নয়। পুলিশ তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন না করলে সুস্থ হলেই তিনি মামলা করবেন বলেও জানান। এবং ফজের আলীর চাকরিচ্যুতির দাবি করেছেন তিনি। স্থানীয় কয়েকজন আ’লীগ নেতা বলেন, এসআই ফজের আলীর বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। তিনি এই ফাড়িতে আসার পরই আমরা লক্ষ করেছি তিনি প্রচন্ড আ’লীগ বিদ্বেষী মনোভাব পোষন করেন। আ’লীগের কোন নাম গন্ধ পেলেই তাকে হেনস্থা করে ছাড়েন তিনি। এহেন ঘটনায় এসআই ফজের আলীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি করেন তারা। এ দিকে শরীফুলকে মামলা না করার জন্য এসআই ফজের আলী ও তার লোকজন চাপ প্রয়োগসহ অব্যাহত ভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদ আবু সরোয়ার এই প্রতিবেদককে জানান, ঘটনাস্থলে তাৎক্ষনিক অফিসার পাঠিয়ে খোজ খবর নেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত এসআই ফজের আলীকে প্রত্যাহার করে শো’কজ করা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে বিভাগীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
basic-bank

Be the first to comment on "বেপরোয়া পুলিশ ! নির্যাতনের শিকার আ’লীগ নেতা শরিফুল"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*