শিরোনাম

ক্রেতা কমেছে তবে সবজির দাম কমেনি

নিউজ ডেস্ক : ঈদের আমেজে মেতেছে সবাই। ইতোমধ্যেই ঈদের ছুটিতে বাড়ির পথে যাত্রা শুরু করেছে অনেকেই। অার সে কারণে রাজধানীতে মানুষ কমতে শুরু করেছে। অনেকটাই ফাঁকা ফাঁকা ভাব সর্বদাই।

রাজধানীতে মানুষ কম হওয়ার প্রভাব পরেছে সবজি বাজারগুলোতে। কমছে ক্রেতার সংখ্যা; একইসঙ্গে সবজির চাহিদাও অনেক কমে গেছে। তবে সবজির দাম কমেনি। গত কয়েক সপ্তাহের দামেই প্রায় সব ধরনের সবজি বিক্রি হচ্ছে আজ শুক্রবারের বাজারে। আবার টমেটো, কাঁচা মরিচ, শিম, শশাসহ কিছু পণ্যের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ২০-৩০ টাকা করে বেড়েছে।

এখনও বর্ধিত দামে সবজির বিক্রির কারণ হিসেবে বরাবরের মতো সরবরাহ সংকটের কথা জানিয়েছেন রাজধানীর কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা। সবজি বিক্রেতারা বলেন, সবজি ও কাঁচাপণ্যবাহী ট্রাকগুলো এখন গরু সরবরাহে ব্যস্ত। গরু পরিবহনে ট্রাকের চাহিদা বাড়ায় সবজি সরবরাহেও ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। আবার পথে পথে গরু-ছাগলের হাট বসায় সঠিক সময়ে সবজি সরবরাহ করতে সমস্যা হচ্ছে। অনেক অনেক সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার সবজির দাম না কমার কারণ হিসেবে ক্রেতা সংকটের কথাও জানালেন কয়েকজন বিক্রেতা। তবে ক্রেতাদের মতে, সরবরাহ সংকট কিংবা ক্রেতা সংকট বিক্রেতাদের অজুহাত মাত্র। মূলত ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণেই কমছে না কোনো সবজির দাম।

ঈদুল আযহার ছুটি আজ শুক্রবার থেকে শুরু হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানী ছেড়েছেন অনেকে। আজ সকালেও অনেকেই নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ছেন। ইতোমধ্যে রাজধানীর অভ্যন্তরে যান চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও রাজধানীর মুগদা, মাণ্ডাসহ আশপাশের বেশকিছু খুচরা বাজারে অন্যান্য শুক্রবারের মতো ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়নি।

রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুধু আলু ও পেঁপে ছাড়া প্রায় সব সবজির দামই ৫০ টাকার বেশি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই দামে বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ সবজি। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে টমেটো, সিম, করলাসহ বেশ কিছু সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আজকের বাজারে টমেটো বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ টাকা দরে; গত সপ্তাহে যা ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আজকের বাজারে শিম বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকা কেজি দরে; গত সপ্তাহে যা ৮০-১০০ টাকা ছিল। এছাড়া গত সপ্তাহে ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ আজকের বাজারে ১১০-১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির মধ্যে শশা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫৫ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, ঝিঙ্গা ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০-৫০ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকা, আলু ২২ থেকে ২৫ টাকা এবং পেপে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দাম কমার পরিবর্তে বাড়ার কারণ কী এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যবসায়ীরা জানান, কোথাও সবজি নাই। কারওয়ান বাজারেই সবজি সংকট। অনেক বাড়তি দাম দিয়া আমরা সবজি আনছি।

কেউ জানান, এখন বাজারে সবজি আসছে না। সবজি সরবরাহ করার ট্রাকে গরু আসছে। এছাড়া পথে পথে গরু-ছাগলের হাট বসছে। তাই সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে পেঁয়াজের দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও কোরবানিকে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতিটি মসলার দাম বেড়েছে। আজকের বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৩৮-৪০ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য মসলা পণ্যের মধ্যে দেশি রসুন ১৫০-১৬০ টাকা,  ইন্ডিয়ান রসুন ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে ২৫-৩০ টাকা করে বেড়ে আঁদা মানভেদে ১৩০-২০০ টাকায়; দারচিনি ৩০০-৩১০ টাকা, এলাচ মানভেদে ১০০০-১৭০০ টাকা, লবঙ্গ ১১০০-১৫০০ টাকা, জিরা ৩৪০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

basic-bank

Be the first to comment on "ক্রেতা কমেছে তবে সবজির দাম কমেনি"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*