নিউজ ডেস্ক : ঢাকার চারপাশের নদীগুলো দখল করে গড়ে উঠা ১৩টি স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সচিবালয়ে রবিবার নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক গতি প্রবাহ অব্যাহত রাখা সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের ৩৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভা শেষে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
সভা শেষে নৌমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, নদীর অনেক অবৈধ স্থাপনা যেগুলো চিহ্নিত হয়েছে সেগুলো পর্যায়ক্রয়ে উচ্ছেদে কাজ শুরু করেছি। আমরা ১৩টি স্থাপনা আজ নির্ধারণ করলাম, খুব দ্রুত সেগুলো অপসারণ করব। তবে কোন নদীর কোন স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়েছে তা না জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, যত শক্তিশালী ব্যক্তিই হোক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালাব।
বিভিন্ন নদীতে বসানো সীমানা পিলার নিয়ে আপত্তি নিরসনে নকশা প্রয়োজন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে নকশা সংগ্রহ করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হবে। তারা ওই নকশার ভিত্তিতে সীমানা নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।
এ ১৩টি স্থাপনার বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (টাস্কফোর্স) নূর-উর রহমান ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান এম মোজাম্মেল হক কোন তথ্য জানাতে রাজি হননি। তারা জানান, স্থাপনার নামগুলো আগেই প্রকাশিত হলে উচ্ছেদ অভিযানে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
সীমানা পিলারকে কেন্দ্র করে অনেক জায়গায় নতুন করে অবৈধ দখলের প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, আমরা সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের একটি পরিপত্র জারি করে নির্দেশনা দেব। সেটি হল পুনরায় জরিপকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ সব এলাকায় মাটি ভরাট বা কোন ধরণের স্থাপনা করা যাবে না।
মন্ত্রী বলেন, নদীর পাড়ের যে জায়গাগুলোর খাজনা বিআইডব্লিউটিএ নিয়ে থাকে, দেখা যায় তহশিল অফিসে গিয়ে এ জমির দাবিদার অনেকে খাজনা দিয়ে থাকে। তাদের খাজনা যাতে না নেওয়া হয় সেজন্য তহশিলদারদের এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হবে। নদী দখল-দূষণ রোধে জনগণকে সচেতন করে তুলতে প্রচারণামূলক কার্যক্রম চলবে বলেও জানান মন্ত্রী।
ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, নৌ সচিব অশোক মাধব রায় ছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

Be the first to comment on "নদী দখল করে গড়ে উঠা ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত"