নিউজ ডেস্ক : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের হযরত ফাতেমাতুজ জোহরা (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসা লিল্লাহ বোডিং ও এতিমখানায় বরাদ্ধকৃত সরকারি ও বিভিন্ন অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে সহকারি পরিচালক সমাজসেবা অধিদপ্তর ঢাকা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও দাখিল করেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি অলিয়ার রহমান।
সরেজমিনে গিয়ে লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার দিঘলিয়ায় অবস্থিত অসহায় এতিমদের লালন পালন ও ভরন পোষনের মহান ব্রত নিয়ে বিগত ২০০০ সালে স্থাপিত হয় প্রতিষ্ঠানটি। মহিলা মাদ্রাসা,লিল্লাহ বোডিং,ও এতিমখানায় কাগজ কলমে মোট শিক্ষার্থী ১৬০ এবং শিক্ষক রয়েছে ১৫ জন। মাদ্রাসাটি বিভিন্ন অনুদানের টাকায় করা হলেও প্রধান শিক্ষক রশীদুল ইসলাম কবির মাদ্রাসার জমির দাগের স্থলে নিজ নামীয় দাগ নম্বরে বাড়ির আদলে দ্বীতল ভবন নির্মান করেন। ভিতরে পুরুষের প্রবেশাধীকার সংরক্ষিত করায় শিক্ষার্থী সুত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়। শিক্ষার্থী রয়েছে ৫০-৬০ জন এবং শিক্ষক রয়েছে মাত্র ৪জন,পুরুষ-২ ও মহিলা-২জন। দেওয়া হয় খুবই নিম্মমানের খাবার । প্রধান শিক্ষকের সেবাযতœ সহ তার বাসার সকল কাজ আমাদের দিয়ে করতে বাধ্য করানো হয়।
কালের বিবর্তনে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ আত্মীয় করন ও পরিবার তান্ত্রিক হওয়ায় ব্যহত হচ্ছে পাঠদান। চলছে সরকারি-বেসরকারি অর্থ লুটপাটের মহোৎসব। খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে নি¤œমানের,ফলে রুগ্ন ও পুষ্টিহিনতায় ভুগছে শিক্ষার্থীরা। কাগজে কলমে ৪৩জন এতিম থাকলেও বাস্তবে দেখা মিলে মাত্র ৩ জনের। উপজেলা সমাজসেবা অফিস সুত্রে জানা যায়, উপজেলায় অনিবন্ধিতসহ প্রায় ৩৫টি এতিমখানা রয়েছে। নিবন্ধিত ১৯টির মধ্যে ওই এতিম খানায় ৪৩ জন এতিম রয়েছে তাদের জনপ্রতি মাথা পিছু সরকারি বরাদ্ধ মাসিক ১হাজার টাকা। ৬ মাস অন্তর টাকাটা উত্তোলন করা হয়। সোনালী ব্যাংক লক্ষীপাশা শাখায় প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পর ২৫ নভেম্বর ২০১০ সালে সঃহি ২৫০৫৩৪০০৫১১৯ প্রতিষ্ঠানের নামে যৌথ স্বাক্ষরে একটি হিসাব খোলা হয়। যাহার লেনদেন ক্ষমতা প্রধান শিক্ষক রশীদুল ইসলাম কবির ও তার স্ত্রী ফাতিমাতুজ জোহরা’র।
প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় উপজেলার চাঁন্দেরচর গ্রামের লিবিয়া প্রবাসী বিল্লাল সরদারের স্ত্রী রেশমা ও নড়াগাতী থানার মাউলি গ্রামের ব্যবসায়ী আহম্মেদ শেখের স্ত্রী আঞ্জুরা বেগমের সাথে। তিনারা জানান তাদের মেয়ে হেফজ পড়–য়া তাহেরা ও ৪ জামাত পড়–য়া রহিমা খানমের সাথে দেখা করতে এসেছেন। তিনারা বলেন প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাসিক ৮শ টাকা সাথে ভর্তি ফিস,বিদ্যুত বিলসহ যাবতীয় টাকা পরিশোধ করতে হয়, এতিম আছে নাকি জানতে চাইলে বলেন, সবারইতো বাপ-মা আছে । আমরা টাকা দিয়ে পড়াই সেই টাকা দিতে এসেছি।
টাকা লেনদেনে ফাতিমাতুজ জোহরার স্বাক্ষরে গড়মিল পরিলক্ষিত হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই শাখার এক ব্যাংক কর্মচারী বলেন, প্রধান শিক্ষক রশীদুল ইসলাম কবির,সোনালী ব্যাংক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার যোগসাজসে ভূয়া রেজুলেশন জমা ও কোষাধ্যক্ষ প্রধান শিক্ষকের স্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে বরাদ্ধকৃত সরকারি অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাত করে আসছেন তারা। আত্মসাতের বিষয়টি,কর্মকর্তারা অবশ্য অস্বীকার করেন। লুটপাটের প্রায়একই চিত্র উপজেলার প্রতিটি এতিমখানায়।
সভাপতি অলিয়ার রহমান বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা ওঠাতে গেলে মিটিং করে রেজুলেশন জমা দিতে হয়। কিন্তু মিটিং বা কোথাও আমার কোন স্বাক্ষর নাই। পরিচালনা পর্ষদে আমি ব্যতিত রশীদুল ইসলাম কবীরের আত্মীয়স্বজন হওয়ার সুবাদে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে গায়ের জোরে ইচ্ছে মতো একক সিদ্ধান্তে সরকারী-বেসরকারী অর্থ স্বাক্ষর জাল করে লুটপাট ও আত্মসাত করছেন শিক্ষক রশীদুল ইসলাম কবীর । তদন্ত করে সরকারী অর্থ ফেরতসহ দোষী প্রধান শিক্ষকের দৃষ্ঠান্তমুলক বিচার চান তিনি।
প্রধান শিক্ষক রশীদুল ইসলাম কবীর আত্মসাত ও অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করলেও সরকারী অনুদানের টাকায় শিক্ষকের বেতন ও ভাতাদি পরিশোধ করেন বলে স্বীকার করেন। এও বলেন সরকারী নিয়ম-নীতি মেনেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হয়। সামান্য ভুল ত্রুুটি থাকতে পারে আলোচনা করে সংশোধন করা হবে। তিনার শিক্ষাগত যোগ্যতা সর্ম্পকে জানতে চাইলে ক্যামেরা দেখে কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে বলেন জেনারেল (ইংরেজি) লাইনে মেট্রিক পাস করেছেন। তবে অপর এক সুত্রে জানা যায় তিনি প্রাইমারীও পাস করেন নাই। ইসলামী লাইনে অক্ষর জ্ঞান না থাকলেও তিনি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শামীম মাহমুদ যোগসাজসে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, সরকারী নিয়ম মেনেই অর্থ ছাড় করা হয়। এখানে আত্মসাত করার কোন সুযোগ নেই। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একটি অভিযোগ এসেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত পূর্বক ৮জানুয়ারী পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত করে প্রশাসন ও স্থানীয় সাংসদ,উপজেলা চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধির প্রতিনিধি সমন্ময়ে ৫ সদস্য বিশিষ্ঠ নতুন তত্ত্বাবধায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক কমিটি ৯০ দিনের মধ্যে নতুন কার্যকরী কমিটি নির্বাচন পূর্বক নব গঠিত নির্বাচিত কমিটির নিকট দায়ীত্ব হস্তান্তর করবেন।
Be the first to comment on "লোহাগড়ায় এতিমখানার টাকা আত্মসাত"