নিউজ ডেস্ক : সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, শিশুদের তাদের মতো করে বড় হতে দিতে হবে। ‘শিশুদের নিজস্ব একটি শক্তি আছে’ উল্লেখ করে অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের ওই শক্তিকে বিকশিত হতে দিতে হবে।
তাহলে ওই শিশুটি প্রকৃত মানুষ হয়েই বড় হবে।
আজ জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘শিশুদের স্বপ্নের পৃথিবী’ শীর্ষক চিত্রাংকন ও পুরস্কার বিতরণী উৎসব ২০১৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক অরূপ রতন চৌধুরী, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ এস এম বদরুদ্দোজা, ভারত বিচিত্রার সম্পাদক নান্টু রায় ও এভারেস্টজয়ী এম এ মুহিত।
ব্রাইটার ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি রাশেদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক জয়শ্রী জামান এবং ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ ও সাংবাদিক রুহুল গণি সরকার জ্যোতি বক্তৃতা করেন।
সাংবাদিক মাহফুজা জেসমিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে ব্রাইটারের সহসভাপতি ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. হেলালউদ্দিন ‘শিশুদের মানসিক বিকাশে পরিবারের ভূমিকা’ শীর্ষক পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন।
অভিভাবকদের উদ্দেশ করে মন্ত্রী নূর বলেন, শিশুদের ওপর জোর করবেন না। এতে তাদের সুকুমারবৃত্তি নষ্ট হয়। তাদেরকে তাদের মতো করে বড় হতে দিন। জিপিএ ৫ এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিভাবকরা এখন সন্তানদের জিপিএ ৫ পাওয়ানোর জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্কুল, কোচিং সেন্টার ও কাঁড়িকাঁড়ি বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন। যার ভারে শিশুরা এখন খোলা আকাশ, পাখি, নদী, বৃষ্টি এসব দেখতে ভুলে গেছে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, শিশুরা এখন আর নিজেদের মতো করে ভাবতে পারছে না। তারা রোবোটিক কায়দায় বেড়ে উঠছে। এ থেকে তাদেরকে বের করে আনতে হবে।
তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদেরই এগিয়ে আসতে হবে। শিশুদের কবিতা গল্প পড়তে, ছবি আঁকতে, গান গাইতে ও খেলাধুলা করতে দিতে হবে।
পরে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৮০ জন শিশু-কিশোরকেই ব্রাইটার ফাউন্ডেশন পুরস্কৃত করে। প্রধান অতিথি তাদের সবার হাতে বই ও মগ তুলে দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে উৎস বাংলাদেশের শিশুশিল্পীরা মাইকেল জ্যাকসনের ‘হিল দ্য ওয়ার্ল্ড…’ গানটি পরিবেশন করে।

Be the first to comment on "শিশুদের, তাদের মতো করে বড় হতে দিতে হবে : সংস্কৃতিমন্ত্রী"