শিরোনাম

সোনা, রূপো, ব্রোঞ্জ নয়- অলিম্পিকে চতুর্থ পদকও জিতেছেন অনেকে

নিউজ ডেস্ক : সদ্য শেষ হল অলিম্পিকের আসর। সোনা না জুটলেও সিন্ধু এবং সাক্ষী মালিকের সৌজন্যে একটি রূপো এবং একটি ব্রোঞ্জ পেয়ে অভিযান শেষ করেছে ভারত। প্রথম তিন স্থানে শেষ করা খেলোয়াড়দের অলিম্পিকে সোনা, রূপো এবং ব্রোঞ্জ পদক দেওয়া হয়, এটা আমরা জানি। কিন্তু এই তিন পদক ছাড়াও বিশেষ ক্ষেত্রে আরও একটি পদক দেওয়া হয়। সেই পদকের নাম পিয়েরে দি কুবার্তিন মেডেল। অলিম্পিকে বিশেষ অবদানের জন্য এই পদক দেওয়া হয়। প্রতি অলিম্পিকে নিয়ম করে এই পদক দেওয়া হয় না। গ্রীষ্মকালীন এবং শীতকালীন অলিম্পিক মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ১৭ জন অ্যাথলিটকে এই বিশেষ পদক দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে অসাধারণ কিছু গল্প। ১৯৩৬ সালে জার্মানির লুজ লং প্রথম অ্যাথলিট যিনি এই সম্মান পেয়েছিলেন। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক অলিম্পিকে এই চতুর্থ পদক পাওয়া কয়েক জন খেলোয়াড়কে।

লুজ লং: ১৯৩৬ সালের বার্লিন অলিম্পিকে লং জাম্পের কোয়ালিফাইংয়ের আসর। প্রতিদ্বন্দ্বীদের অন্যতম প্রবাদপ্রতীম মার্কিন অ্যাথলিট জেসি ওয়েন্স। কিন্তু কেউই নিজের সেরাটা দিতে পারছেন না। এমনকী বেশ কয়েক জন ফাইনালের যোগ্যতামানও পেরোতে পারলেন না।
দু’বারের চেষ্টায় ব্যর্থ হলেন জার্মানির লং জাম্পার লুজ লং। এর পরেই তিনি এগিয়ে গেলেন ওয়েন্সের কাছে। বললেন, জাম্পের রানআপের একটি জায়গায় বিশেষ সমস্যার কথা। যে জন্য সমস্যায় পড়ছেন বেশির ভাগ অ্যাথলিট। পরামর্শ দিলেন ওই বিশেষ জায়গা খেয়াল রেখে জাম্প দিতে। লংয়ের পরামর্শে জাম্প দিয়ে সেই অলিম্পিকে সোনা জেতেন লং।

ইউজিন মন্টি: ১৯৬৪ সালে ইন্সব্রুকে শীতকালীন অলিম্পিক্সে ইতালীয় ববস্লেডার ইউজিন মন্টি তাঁর নিজের কি বোল্ট দিয়ে সাহায্য করেন ব্রিটিশ ববস্লেডার দলটিকে। সেই কি বোল্ট নিয়ে মন্টিদের হারিয়েই সোনা জেতেন তাঁরা। তাঁর এই স্পোর্টসম্যানশিপের জন্য তাঁকে পিয়েরে দি কুবার্তিন মেডেল দেওয়া হয়। পরের অলিম্পিকেই অবশ্য সোনা জেতেন মন্টি।

লরেন্স লেমিউক্স: ১৯৮৮-র সিওল অলিম্পিকে সেইলিংয়ে তখন রুপো পাওয়া নিশ্চিত কানাডার সেইলর লরেন্সের। হঠাত্ই তিনি দেখতে পান কিছুটা দূরে ডুবে যাচ্ছে সিঙ্গাপুরের সেইলরদের নৌকা। পদকের তোয়াক্কা না করে তিনি নিজের নৌকা নিয়ে পৌঁছন দুর্ঘটনাগ্রস্ত ওই নৌকার দিকে। উদ্ধারকারী দল আসার আগেই নিজের নৌকায় তুলে নেন তাঁদের। পরে রেস শেষ করেন ১১তম স্থানে। এই ঘটনার পর তাঁকে পিয়েরে দি কুবার্তিন মেডেলের সঙ্গে প্রাপ্য রূপোর পদকটিও দেওয়া হয়।

এমিল জাটোপিক: চেকোশ্লোভাকিয়ার এই লং ডিসট্যান্স দৌড়বীদকে বলা হত ‘চেক লোকোমোটিভ’। তিনিই একমাত্র অ্যাথলিট অলিম্পিকে একই সঙ্গে ৫ হাজার, ১০ হাজার এবং ম্যারাথন জিতেছিলেন। কোনও রকম প্রস্তুতি ছাড়াই হেলসিঙ্কি অলিম্পিকে ম্যারাথনে নেমে সোনা জেতেন। ইন্টারভ্যাল ট্রেনিং এবং হাইপোভেন্টিলেশন ট্রেনিংয়ের জনক এমিলকে মরণোত্তর পিয়েরে দি কুবার্তিন মেডেল দেওয়া হয়।

ভ্যানডারলেই দি লিমা: ২০০৪ সালের আথেন্স অলিম্পিকে ম্যারাথনে তখন অনেকটাই এগিয়ে দি লিমা। সোনা যখন প্রায় নিশ্চিত, তখনই দর্শকদের ভিড় থেকে এক আইরিশ পাদ্রি এসে লিমাকে বাধা দেন। সেই বাধা কাটিয়ে ফের দৌড় শুরু করে ব্রোঞ্জ জেতেন লিমা। ব্রোঞ্জের সঙ্গে তাঁকে পিয়েরে দি কুবার্তিন মেডেলও দেওয়া হয়।

শল লাডানি: ইজরায়েলি এই রেস ওয়াকার কেরিয়ারে কোনও অলিম্পিক পদক জেতেননি। কিন্তু তাঁর জীবন ছিল অত্যন্ত বর্ণময়। আট বছর বয়সে লাডানি বের্জেন-বেনসেনের কুখ্যাত কনসেনট্রেশন ক্যাম্প থেকে জীবিত অবস্থায় ফেরেন। মৃত্যু এর পরেও ছুঁয়ে গিয়েছে তাঁকে। ১৯৭২ সালে মিউনিখ ম্যাসাকার থেকে দৈবক্রমে রক্ষা পান তিনি। অলিম্পিক পদক না পেলেও একাধিক বিশ্বরেকর্ড রয়েছে তাঁর নামে। ন’টি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন। লিখেছেন শতাধিক বই। ২০০৭ সালে তাঁকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্টের জন্য পিয়েরে দি কুবার্তিন মেডেল দেওয়া হয়।

পিটার কুপাস, ইভান বুলাজা, পাভেল কোস্তভ: ক্রোয়েশিয়ার এই তিন সেইলরকে এক সঙ্গে পিয়েরে দি কুবার্তিন মেডেল দেওয়া হয় স্পোর্টসম্যানশিপের জন্য। ২০০৮ সালের বেজিং অলিম্পিকে প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার কিছু ক্ষণ পরেই তাঁরা দেখতে পান প্রতিদ্বন্দ্বী কারকেলার্প, ওয়ারারদের পাল ভেঙে গিয়েছে। নিজেদের নৌকাটি ওয়ারারদের ধার দেন কুপাসরা। সেই নৌকা নিয়ে কুপাসদের হারিয়েই সোনা জেতেন ওয়ারাররা।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

basic-bank

Be the first to comment on "সোনা, রূপো, ব্রোঞ্জ নয়- অলিম্পিকে চতুর্থ পদকও জিতেছেন অনেকে"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*