নিউজ ডেস্ক : নিজের হাতে গড়া মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ‘অপরাজেয় বাংলা’র পাদদেশেই ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে। এ উদ্দেশে রবিবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে তার মরদেহ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে নিয়ে আসা হয়।
তার ছোট ছেলে সৈয়দ আব্দুল্লাহ জহির বলেন, সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা হবে। শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্তানে তাকে দাফন করা হবে।
সত্তরোর্ধ্ব আব্দুল্লাহ খালিদ দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। শনিবার মধ্য রাতে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে রাখা হয়েছে।
চারুকলা ইন্সটিউটে শিল্পী রফিকুন্নবী বলেন, ১৯৬৪ সালে আমি যখন চারুকলায় পড়ানো শুরু করি, আমার প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিল আব্দুল্লাহ খালিদ। সে ছিল আমার ভীষন স্নেহের ছাত্রদের একজন।
তিনি বলেন, একুশে পদক পাওয়ার পর তার কাজের স্পৃহা বেড়ে গিয়েছিল। সবসময় বলত আমি আরও নতুন কাজ করতে চাই।
শনিবার রাতে বারডেম থেকে তার মরদেহ গ্রিন রোডে ছেলে সৈয়দ আব্দুল্লাহ ওয়াসির বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
সিলেট জেলা শহরে জন্ম নেওয়া আব্দুল্লাহ খালিদ ১৯৬৯ সালে তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান কলেজ অফ আর্টস অ্যান্ড ক্রাফ্টস (এখনকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা) থেকে চিত্রাঙ্কন বিষয়ে স্নাতক এবং পরে ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিত্রাঙ্কন ও ভাস্কর্যে স্নাতকোত্তর করেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগে শিক্ষকতা দিয়ে আব্দুল্লাহ খালিদের কর্মজীবনের শুরু। ১৯৭২ সালে সেখানকার প্রভাষক থাকাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর উদ্যোগে কলাভবনের সামনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ‘অপরাজেয় বাংলা’ নির্মাণের দায়িত্ব পান তিনি।
১৯৭৩ সাল থেকে ‘অপরাজেয় বাংলা’র নকশার কাজ শুরু করেন আব্দুল্লাহ খালিদ। ১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে ভাস্কর্যটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৯৭৯ সালে ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন হয় ‘অপরাজেয় বাংলা’র।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণের ইতিহাস উঠে এসেছে এই ভাস্কর্যে।

Be the first to comment on "অপরাজেয় বাংলার পাদদেশেই ভাস্কর আব্দুল্লাহ খালিদকে শেষ শ্রদ্ধা"