নিউজ ডেস্ক: দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করতে নারীর অবদান বেড়েই চলছে। গৃহকোণ থেকে বেরিযে এসে নারী অধিষ্টিত হয়েছেন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদে। কৃষি থেকে শিল্প কোথায় নেই নারী। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী গার্মেন্ট খাতের ৭০ শতাংশই নারী শ্রমিকের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে কম হলেও প্রান্তিক পর্যায়ে নারী পুরুষের বেতন ও মজুরিতে রয়েছে ব্যাপক বৈষম্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় নারীদের বেতনের অনেক বৈষম্য রয়েছে। পোশাক খাতে বারবার নারীদের সুস্থ কর্মপরিবেশের দাবি জানানো হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। কৃষি ও নির্মাণ কাজে মজুরির বৈষম্য আকাশ পাতাল।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুসারে, বর্তমানে ১ কোটি ৬৮ লাখ নারী অর্থনীতির বৃহত্তর তিন খাতে (কৃষি, শিল্প ও সেবা) কাজ করছেন। তবে নারী কর্মীদের সিংহ ভাগই শ্রমজীবী। বাকিদের মধ্যে কেউ উদ্যোক্তা, কেউ চিকিৎসক বা প্রকৌশলী। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ নির্বাহী ও উচ্চপদের দায়িত্ব পালন করছেন অনেক নারী।
বিবিএসের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের কলকারখানায় পুরুষের চেয়ে এক লাখ বেশি নারী শ্রমিক কাজ করেন। বিভিন্ন কারখানায় বর্তমানে ২১ লাখ ১ হাজার ৮৩০ জন নারী শ্রমিক রয়েছেন। পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা ১৯ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫৭ জন। এছাড়া ২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত প্রায় ছয় লাখ নারী কাজ পেয়েছেন। প্রতিবছর গড়ে দুই লাখ নারী কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে যুক্ত হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রাতিষ্ঠানিক ছাড়া প্রান্তিক পর্যায়ে নারীরা পুরুষ শ্রমিকের তুলনায় বেশি কাজ করেও মজুরি পান অর্ধেক। প্রতিদিন প্রায় ১০ ঘণ্টা পরিশ্রম করতে হয় নারী শ্রমিকদের। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকের কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। রোদ-বৃষ্টিতে বসার মত কোনো জায়গাও থাকে না। থাকে না টয়লেটের ব্যবস্থাও। অনেক নারী শ্রমিক তাদের শিশু সন্তানকে সঙ্গে আনলেও তাদের থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই।
এ বিষয়ে নারী নেত্রী ফরিদা আখতার বলেন, পোশাক খাতে বারবার নারীদের সুস্থ কর্মপরিবেশের দাবি জানানো হলেও এখনো তা অধরাই রয়ে গেছে। এই গরমে শ্রমিকরা পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করার সুযোগ পান না, গাদাগাদি করে বসে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা একটানা কাজ করেন। আসলে আমরা শ্রমিক দিবসের সফলতার পথে হাঁটছি, তবে লক্ষ্য এখনো বহুদূর।
নারী রান্নাবান্না, সন্তান লালন-পালনসহ গৃহস্থালির কাজকর্মের স্বীকৃতি নেই মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি)। এই শ্রমের আর্থিক মূল্যমানও নির্ধারণ করা হয় না। ফলে অর্থনীতিতে নারীর এ কাজের অবদান অমূল্যায়িতই থাকছে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক রুশিদান ইসলাম রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এক সময় নিয়োগকারীরা শিল্প শ্রমিক হিসেবে নারীর জোগানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতেন না। কিন্তু পোশাকশিল্পে নারীর বিপুল অংশগ্রহণের পর থেকে অন্য শিল্পোদ্যোক্তারাও সহজলভ্য শ্রম হিসেবে নারী শ্রমিক নিয়োগের কথা ভাবতে পারছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারী এগিয়ে গেলে বদলে যাবে দেশের অর্থনীতি। কিন্তু এ জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তা না হলে মধ্যম আয়ের দেশে স্বপ্ন পূরণ হওয়া কঠিন হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষিত, দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে নারীকে আরো এগিয়ে আসতে হবে।
সূত্র: জাগো নিউজ

Be the first to comment on "নির্ভরতা বাড়লেও কমেনি নারীর বৈষম্য"