নিউজ ডেস্ক: প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা বলেছেন, বিচার বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে মিডিয়া সময়োপযোগী সংবাদ প্রকাশ করে নিরন্তর সহযোগিতা করে আসছে। তারা বিচার বিভাগের যুগান্তকারী সংস্কার সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, কিছু কিছু সংবাদপত্র ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, একপেশে খবর, অদূরদর্শী এবং পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর জন্য নৈতিকতা বিবর্জিত সংবাদ প্রচার করে বিচার বিভাগ তথা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। কিন্তু তারা যুগান্তকারী ভূমিকাও রাখছে।
বুধবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির অডিটিরিয়ামে “দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ” নামে একটি পত্রিকার প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পত্রিকাটির প্রকাশক মো. তাজুল ইসলাম এমপি।
আলোচনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পত্রিকাটির সম্পাদক আবু সাইদ খান।
বিচার বিভাগ ও সাংবাদিকতার সম্পর্ক নিয়ে বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় বিচার বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায় না। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন সাংবাদিকরা। ফলে বিচার বিভাগ ও সাংবাদিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক অত্যাবশ্যক। গণমাধ্যম বিচার বিভাগ ও বিচারপ্রার্থী জনগণের আশা-আকাঙ্খা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ইত্যাদি বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন করার গুরুদায়িত্ব পালন করে আসছে।’
উগ্রতা-অসহিষ্ণুতা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সংবাদপত্রের ভূমিকা নিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সমাজে তথা রাষ্ট্রে ক্রমাগত উগ্রতা ও অসহিষ্ণুতা ছড়িয়ে পড়ছে। মানুষের মধ্যে সহিষ্ণুভাব আশ্চর্যজনকভাবে লোপ পাচ্ছে। এই উগ্রতা এবং অসহিষ্ণুতা মোকাবেলায় মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে। মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। পরস্পরের প্রতি সহনশীলতা সৃষ্টি করতে মানুষের শুভবোধগুলোকে সামনে নিয়ে আসতে হবে। সন্ত্রাসবাদ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। সাংবাদিকগণ ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গঠন করতে অনন্য ভূমিকা রাখতে পারেন।’

Be the first to comment on "বিচার বিভাগ সংস্কারে গণমাধ্যম ভূমিকা রাখছে : প্রধান বিচারপতি"