নিউজ ডেস্ক: দু’দিন ধরে ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তিতে নগরবাসী। সেই সঙ্গে হঠাৎ করে বাতাস ছেড়ে ঝড়-বৃষ্টির দেখাও মিলছে গত কয়েকদিন ধরে। অন্তত শুক্রবার পর্যন্ত এসব মেনে নিয়ে আবহাওয়া ‘স্বাভাবিক হওয়ার’ অপেক্ষায় থাকতে হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া
অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মো. রাশেদুজ্জামান মঙ্গলবার জানান, চৈত্র মাসের দ্বিতীয়ার্ধে এসে অনেক এলাকায় বৃষ্টির পাশাপাশি ঝড়ো আবহাওয়া বিরাজ করেছে। আজও (মঙ্গলবার ২২ চৈত্র) কিছু এলাকায় ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। আরও দু’দিন তা অব্যাহত থাকতে পারে।
তিনি বলেন, “দু’দিন পর শুক্রবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। ঝড়বৃষ্টি কমতে পারে এসময়; তবে সিলেট এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ঝড়বৃষ্টি কমে গেলে তাপমাত্রা একটু বাড়তে পারে।”
এমন সময়ে এরকম আবহাওয়া গত ৫ বছরের তুলনায় ‘একটু অস্বাভাবিক’ বলেই মনে করেন রাশেদ।
“পাঁচ-ছয় বছর পর পর ঝড়-বৃষ্টি একটু বাড়ে। এবারও তাই হয়েছে। গত মাসেও স্বাভাবিকের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে কয়েকদিন পর স্বাভাবিক আবহাওয়া বিরাজ করবে।”
মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে সিলেটে, ১৭৫ মিলিমিটার। আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে, ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
একই সময় ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বুধবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ী দমকাসহ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি ও ভারি বর্ষণের শঙ্কা রয়েছে।
দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। রাতের তাপমাত্রাও অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এ সময়ে দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে এবং পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে তা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে অধিদপপ্তর।
পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির কার্যকারিতা কমে আসতে পারে এবং তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
এপ্রিল মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়, এপ্রিল মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। চলতি মাসে দেশে নদ-নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে। তবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পাহাড়ি ঢলের কারণে আকস্মিক বন্যা হতে পারে।
এ মাসে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি) এবং অন্যত্র এক থেকে দুটি মৃদু (৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা মাঝারি (৩৮ এর চেয়ে বেশি ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
ভ্যাপসা গরমের বিষয়ে আবহাওয়াবিদ রাশেদ বলেন, “বাতাসের আদ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম একটু বেশি অনুভূত হচ্ছে।”

Be the first to comment on "ভ্যাপসা গরম আরও দু’দিন"