শিরোনাম

মধুপুরে চলন্ত বাসে পোশাকশ্রমিককে গণধর্ষণ

নিউজ ডেস্ক : টাঙ্গাইলে চলন্ত যাত্রীবাহী একটি বাসে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বিনিময় পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহি বাসে ধনবাড়ী-মধুপুর সড়কে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর দুপুরে তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ধর্ষিত ওই নারী গাজীপুরের চন্দ্রায় একটি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। পুলিশ রাত সোয়া ১০টার দিকে তিন ধর্ষণকারীকে গ্রেফতার করেছে।

ধর্ষিত ওই নারী জানান, বৃহস্প্রতিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার দত্তবাড়ি গ্রামে তার খালার বাড়ি বেড়াতে যান। শুক্রবার সকালে গাজীপুরের চন্দ্রায় এসে ওই প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগ দিবেন। এ কারণে সে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৫টার সময় ধনবাড়ি উপজেলা বাসস্ট্যান্ডে এসে গাজীপুরের চন্দ্রার উদ্দেশ্যে বিনিময় পরিবহন নামে একটি বাসের টিকেট কেটে উঠেন। বাসটির নম্বর শেষের চার অক্ষর ১৯৫৪। ভোরে বাসে অন্য কোন যাত্রী না থাকায় গেট আটকিয়ে গাড়িটি ছেড়ে দেন। কিছুক্ষণ চলার পর সুপারভাইজার ও দুইজন সহকারি এসে ওই মহিলাটির আসনের পাশে বসে। এরপর তিনজনে মিলে তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। মহিলাটি তাতে সাড়া না দিলে তাকে মুখ চেপে ধরে। এরপর তারা তাকে জোরপূর্বক গণধর্ষন করে। এ সময় মহিলাটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। চালক এ সময় বাসটি চালিয়ে মধুপুর চলে আসে। মহিলাটির জ্ঞান ফিরলে গাড়ির মধ্যেই সে চিৎকার করতে থাকে। তারা ওড়না দিয়ে মহিলাটির মুখ বেঁেধ রাখে। পরে চালক ঢাকার দিকে না দিয়ে গাড়িটি ময়মনসিংহের দিকে চালাতে থাকে। মধুপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহের দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার দুরে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মহিলাটিকে মারপিট করে বাস থেকে নামিয়ে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

রাস্তায় মহিলাটির আর্তচিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। এ সময় তারা ওই নারীর স্বামী বখতিয়ার মিয়ার কাছে ফোন করেন। গাজীপুরের চন্দ্রায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত স্বামী বখতিয়ার মিয়া মধুপুর এসে তার স্ত্রীকে নিয়ে টাঙ্গাইলে আসেন। পরে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বখতিয়ারের বাড়ি নাগরপুর উপজেলার ঘুনিগজমতি গ্রামে।

এদিকে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষনের ঘটনা শুনে পুলিশ ধর্ষণকারীদের ধরতে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাজার থেকে ধর্ষক ওই গাড়ির চালক নয়ন ও দুই সহকারি রেজা ও ভুট্রোকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

বখতিয়ার বলেন, ঘটনা জানার পর আমি মধুপুরে চলে আসি। এরপর স্ত্রীকে নিয়ে টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ডে আসি। আমি দীর্ঘদিন টাঙ্গাইলে গাড়ি চালিয়েছি। বর্তমানে গাজীপুরের চন্দ্রায় লেগুনা চালাই। বাসস্ট্যান্ডে আসলে শ্রমিক নেতারা সাধারণ ঘটনা বলে তারা আমাকে এটা নিয়ে কাউকে কিছু না বলতে নিষেধ করেন। তারা টাকা দিয়ে ঘটনা মিটিয়ে ফেলতে চাপ দেন। আমি এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী চিকিৎসক রেহেনা পারভীন বলেন, প্রাথমিক ভাবে দেখে ধর্ষণের ঘটনা মনে হয়েছে। তবে ধর্ষনের আলামত সংগ্রহ করে ল্যাবরটোরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা হয়ে আসলেই প্রমান মিলবে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর জানান, ঘটনা শুনেই হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি। ভিকটিমের বক্তব্যের সুত্র ধরেই রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনার সাথে জড়িত তিন ধর্ষককে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষিতার স্বামী বখতিয়ার রাতেই বাদি হয়ে ধনবাড়ি থানায় মামলা দায়েরের প্রস্ততি নিচ্ছেন। এই চাঞ্চল্যকর মামলা টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করবেন বলে তিনি জানান।

basic-bank

Be the first to comment on "মধুপুরে চলন্ত বাসে পোশাকশ্রমিককে গণধর্ষণ"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*