নিউজ ডেস্ক : ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের হোসেন চৌমহনী গ্রাম থেকে সাথী বেগম নামের এক গৃহবধুকে এলাকার বখাটে যুবকরা ফিল্মি ষ্টাইলে মাইক্রোবাসে তুলে অপহরন করেছে। এ ব্যাপরে গৃহবধু সাথীর মা ছয়ফুল বেগম বাদী হয়ে লালমোহন থানায় মামলা করলেও অপহরনের ৩ দিন (শনিবার পর্যন্ত) পার হলেও পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। কোন আসামীও গ্রেফতার করতে পারেনি।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ভোলার লালমোহনের মূল ভূখন্ড রেথকে বিচ্ছিন্ন তেঁতুলিয়া নদীর মাঝে জেগে ওঠা চর কচুয়াখালিতে অপহৃত গৃহবধু সাথীর বাড়ি। স্কুলে পড়া লেখা করা অবস্থায় সাথীর উপর কু দৃষ্টি পরে প্রতিবেশি আলমগীর মাদবরের বখাটে ছেলে আক্তারের। আক্তারের বখাটেপনার কারনে সাথীর লেখা পড়া বন্ধ করে দেয় পরিবার। এক পর্যায়ে আক্তারের বখাটেপনা থেকে মুক্তি পাবার আশায় বছর খানেক আগে পার্শ্ববর্তী চরফ্যাশন উপজেলার ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নে হাসানের সাথে সাথীকে বিয়ে দেয়া হয়।
গত কয়েকদিন আগে স্বামীর বাড়ি হতে লালমোহনের হোসেন চৌমহনীতে নানা বাড়ি বেড়াতে যায় সাথী। ২৮ এপ্রিল বুধবার দুপুরে নানা বাড়ির অদুরে বান্ধবীদের সাথে টিউবওয়েলে পানি নিতে যায়। এ সময় হঠাৎ সেই বখাটে আক্তার ৫/৬ জন লোক নিয়ে সাথীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি এলাকাবাসী দেখলেও ভয়ে কেউ তাদের চ্যালেঞ্জ করেনি।
এ ব্যপারে অভিযুক্ত আক্তারের পিতা আলমগীর মাদবর সাংবাদিকদের বলেন, মেয়ের মা ছয়ফুল আমার কাছে এসে তার মেয়ে অপহরণ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। আমি ভালো মন্দ এখনও জানি না। ছেলে যদি কোনো অপরাধ করে থাকে তার বিচার হোক এটা আমিও চাই।
অভিযোগ রয়েছে,গত ৫/৬ বছরে চর কচুয়াখালীতে বহু নারী কেলেংকারীর ঘটনা ঘটিয়েছে বখাটে আক্তার। তার অত্যাচারে সাধারণ মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারে না। আক্তারের পিতা আলমগীর মাদবর প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের অপকর্মের প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।
এ ব্যাপারে লালমোহন ওসি আক্তারুজ্জামান বলেন, এ ব্যাপরে লালমোহন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Be the first to comment on "লালমোহনে ফিল্মি ষ্টাইলে গৃহবধু অপহরণ ॥ ৩ দিন পরও উদ্ধার হয়নি"