নিউজ ডেস্ক : কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেও তার মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. কে পি সাহা রোববার জানান, মরদেহ বিকৃত হওয়ায় ময়নাতদন্তে তনুর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর আগে তনুর সঙ্গে কারও শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল। তবে এটাকে ধর্ষণ বলা যায় না।’ তিনি মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় অধিকতর তদন্তের কথা বলেন।
এর আগে রোববার সকালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) কুমিল্লায় শাখায় তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া হয়।
২০ মার্চ তনুর লাশ কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরের কালভার্টের পাশে ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়। ২১ মার্চ তনুর লাশের প্রথম ময়নাতদন্ত হয়। পরে ২৮ মার্চ তনুর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করার জন্য আদালত নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ মার্চ তনুর লাশ মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাড়ির কবরস্থান থেকে উত্তোলন করা হয়। ৪ এপ্রিল দেওয়া হয় প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। এতে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত নয় এবং ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেন চিকিৎসক শারমিন সুলতানা। ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন তনুর বাবা-মা।
ময়নাতদন্তের সময় নমুনা হিসেবে তনুর শরীর থেকে বিভিন্ন অংশ নেওয়া হয়। পরে সিআইডির রাজধানীর মালিবাগের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে ওই নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে চারটি ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি তনুর, অন্য তিনটি তিন ব্যক্তির। ডিএনএ প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। এ অবস্থায় দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য ডিএনএ প্রতিবেদন পেতে ছয় দফা সিআইডি ও মেডিকেল বোর্ডের মধ্যে চিঠি চালাচালি হয়। ৫ জুন বিকেলে আদালত ডিএনএর পুরো প্রতিবেদন দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী মেডিকেল বোর্ডকে দেওয়ার জন্য আদেশ দেন।
আদালতের ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সিআইডি ডিএনএর পুরো প্রতিবেদন গত মঙ্গলবার মেডিকেল বোর্ডকে দেয়। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর শুক্রবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মেডিকেল বোর্ড।
দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও তনুর মৃত্যুর কারণ অজানা

Be the first to comment on "দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও তনুর মৃত্যুর কারণ অজানা"