শিরোনাম

পাঁচ মাস পর নিহত জাপানি নারীর লাশ হস্তান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক : হত্যার পাঁচ মাস পর জাপানি নারী হিরোয়ি মিয়াতার (৬১) লাশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে তাঁদের লাশ হস্তান্তর করা হয়। জাপানি দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি সুধি ওনু ও সেকেন্ড সেক্রেটারি কসু মাতসোনাগার কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুশফিকুর রহমান লাশ হস্তান্তরের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। দূতাবাসের কর্মকর্তারা লাশ কোথায় নেবেন, তা পুলিশকে জানাননি বলে মুশফিকুর রহমান জানান।
প্রায় ১০ বছর ধরে ঢাকায় ছিলেন হিরোয়ি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে সিটি হোমস নামে একটি আবাসিক হোটেলে থাকতেন। ঢাকার কয়েক ব্যক্তির সঙ্গে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন তিনি। এ ছাড়া জাপান সরকারের পেনশনও পেতেন।
গত বছরের ১৯ নভেম্বর জাপান দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানায় হিরোয়ি মিয়াতা নিখোঁজ রয়েছেন বলে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এই জিডির তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে ২৯ অক্টোবর মিয়াতার মৃত্যুর পর তাঁর পরিচয় ও নাগরিকত্ব গোপন করে হালিমা খাতুন নামে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, মিয়াতা প্রতি সপ্তাহে তাঁর মাকে ফোন করতেন। গত বছরের ২৬ অক্টোবর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর মা মিয়াতাকে খুঁজে বের করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে ঢাকায় জাপানি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেন।
জাপান দূতাবাসের অনুরোধে পুলিশ মিয়াতার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা করে। হিরোয়ি মিয়াতাকে অপহরণের পর খুন করে লাশ গুম করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করেছে পুলিশ। পুলিশ ঢাকা ও লক্ষ্মীপুরে অভিযান চালিয়ে এই মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা হলেন মো. মারুফুল ইসলাম (৩০), রাশেদুল হক ওরফে বাপ্পী (৪২), ফখরুল ইসলাম (২৭), বিমলচন্দ্র শীল (৪০) ও মো. জাহাঙ্গীর (২৮)। এঁদের মধ্যে বিমল পেশায় চিকিৎসক। পুলিশ বলেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী। জাপানের নাগরিক মিয়াতার মাধ্যমে তাঁরা জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ব্যবসা করতেন।
জিডির পরে তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে এজাহারভুক্ত আসামি জাকিরুল ইসলাম পাটোয়ারি (৪২) ও মারুফুল ইসলাম ব্যবসায়ী অংশীদার মিয়াতার। তাঁরা মিয়াতাকে সিটি হোমস হোটেলে রাখতেন। রাশেদুল সুকৌশলে তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যান। এরপর রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় ফখরুলের বাসায় আটকে রাখেন। তাঁরা মিয়াতাকে আটকে রেখে জাপানে তাঁর স্বজনদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেন।
এজাহারে বলা হয়, বিমলচন্দ্র শীলের উপস্থিতি ও সহায়তায় পাঁচ আসামি ২৯ অক্টোবর ভোররাত চারটার দিকে সুকৌশলে মিয়াতাকে হত্যা করেন। ওই দিন বিকেলে মারুফুল মিয়াতার লাশ সমাহিত করেন। মিয়াতার ল্যাপটপটি রাশেদুলের প্রতিষ্ঠান থেকে জব্দ করে পুলিশ।

basic-bank

Be the first to comment on "পাঁচ মাস পর নিহত জাপানি নারীর লাশ হস্তান্তর"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*