নিউজ ডেস্ক : রিক্সাভ্যানে বসায় সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের খামারবাড়ির ৫ম শ্রেণির ছাত্র রাতুল (১২)কে বটি দিয়ে কুপিয়ে কান কেটে দিয়েছে একই বাড়ির সেকেন হাওলাদারের ঘরজামাই সিরাজ বাহাদুর। এই সময় তার মাথায়ও আঘাত করা হয়। বর্বর এই ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রায় বিচ্ছিন্ন কানটিকে ৮টি সেলাই দিয়ে জোড়া লাগিয়ে ফরিদপুর অথবা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। আর্থিক দৈন্যতার কারণে রাতুলকে উল্লেখিত হাসপাতালে নিতে পারেনি তার পরিবার। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাদারীপুর সদর হাসপাতাল বেডে ছটফট করছে রাতুল। এ ঘটনার ৪দিন পর পুলিশ মামলা নিলেও আসামী ধরতে পারেনি। উল্লেখ্য, ঘটনাটি সোমবার সকালে খামারবাড়ি এলাকায় ঘটলেও মাদারীপুর সদর থানায় মামলা হয় বৃহস্পতিবার রাতে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৮টার দিকে খামারবাড়ি এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী আঃ হালিম হাওলাদারের ছোট ছেলে রাতুল একই বাড়ির উঠানে সিরাজ বাহাদুরের রিক্সাভ্যানে উঠে বসে। রাতুলকে ভ্যান থেকে নামতে বলে সিরাজের ছেলে মোহাম্ম্দ বাহাদুর। এ নিয়ে দু‘জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সিরাজ ক্ষুব্ধ হয়ে ঘর থেকে বটি এনে রাতুলের মাথা ও কানের মাঝ বরাবর কোপ দেয়। এতে তার বাম কান কেটে ঝুলে যায়। এরপরও রাতুলকে এলোপাথারিভাবে পিটানো হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় বৃহষ্পতিবার রাতে মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলা নং-১৩।
রাতুলের মা ফাহিমা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে সকালে উঠানে রাখা সিরাজ বাহাদুরের রিক্সাভ্যানে বসে। এ সময় সিরাজ বাহাদুর কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে বটি দিয়ে আমার ছেলে রাতুলকে মাথায় কোপ দেয় এবং এলোপাথারি মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে তার বাম কান কেটে ঝুলে পড়ে। সে এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। আমার স্বামী বিদেশে থাকে তাই আমার পাশে কেউ নাই। আমি এর সূষ্ঠু বিচার চাই।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল মোর্শেদ ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। মামলার বাদীরা দেরী করায় মামলা নিতে দেরী হয়েছে।

Be the first to comment on "মাদারীপুরে কান কেটে শিশু নির্যাতন"