নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাহাজ রপ্তানি করলেও আমদানি-রপ্তানি পণ্যের সিংহভাগ পরিবহন করে বিদেশী জাহাজ। এতে জাহাজ ভাড়ার পেছনে বছরে ব্যয় হওয়া ৫ বিলিয়ন ডলারের পুরোটাই চলে যাচ্ছে বাইরে।
জাহাজ মালিকরা জানান, বিশ্ব শিপিং ব্যবসায় মন্দা, ফ্ল্যাগ প্রটেকশন আইনের যথাযথ ব্যবহার না হওয়া এবং বিদেশি বন্দরে বিভিন্ন খরচের জন্য ফান্ড ট্রান্সফারে জটিলতাসহ নানা কারণে সমুদ্রগামী দেশীয় জাহাজের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। বিদেশী জাহাজ ভাড়ায় বছরে ব্যয় হওয়া ৫ বিলিয়ন ডলার।এজন্য সরকারী নীতি সহায়তা চান ব্যবসায়ীরা।
অ্যাঙ্কটাডের প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মেরিটাইম ট্রান্সপোর্ট রিপোর্ট অনুসারে আন্তর্জাতিক রুটে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনকারী জাহাজের সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ হাজার। এর মধ্যে বাংলাদেশী পতাকাবাহী জাহাজের সংখ্যা মাত্র ৩৬টি।
দেশীয় জাহাজ কম থাকায়, গেল বছরে সমুদ্রপথে বাংলাদেশের ৭০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের জন্য বিদেশি জাহাজের ভাড়া বাবদ ব্যয় হয়েছে কয়েক বিলিয়ন ডলার। মেরিন অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, এতে বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা বাইরে চলে যাচ্ছে। তেমনি সমুদ্রগামী দেশীয় জাহাজ না থাকায় মেরিন ক্যাডেটরা প্রশিক্ষণ নিতে পারছে না।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আমদানি ও রপ্তানি পণ্য পরিবহনে দেশীয় জাহাজ প্রাধান্য না পাওয়া, ফান্ড ট্রান্সফার জটিলতাসহ নানা সমস্যার কারণে সমুদ্রগামী দেশীয় জাহাজের সংখ্যা ক্রমশ কমেছে। তবে পণ্য পরিবহনের সাথে যুক্ত ফ্রেইট ফরওয়াডারদের মতে, দেশীয় শিপিং কোম্পানিগুলোর যোগাযোগ নেটওয়ার্ক দুর্বল হওয়ায় তারা এ ব্যবসায় টিকতে পারছেনা।
২০১৩ সালে সমুদ্রগামী দেশীয় জাহাজের সংখ্যা ছিল ৭২টি। ক্রমাগত লোকসানে গত চার বছরে অর্ধেক জাহাজই স্ক্র্যাপ হিসাবে বিক্রি করে দেয় মালিকরা। বর্তমানে বেশ কিছু বড় শিল্প গ্রুপ নিজস্ব শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য জাহাজ কিনলেও বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি হচ্ছে বিদেশি জাহাজেই।
জাহাজ ভাড়ার পেছনে বছরে ব্যয় ৫ বিলিয়ন ডলার

Be the first to comment on "জাহাজ ভাড়ার পেছনে বছরে ব্যয় ৫ বিলিয়ন ডলার"