নিউজ ডেস্ক : চলচ্চিত্রশিল্পকে বাঁচাতে হলে বছরে অন্তত ২০টি ব্যবসাসফল সিনেমা থাকতে হয়। আমাদের দেশে বছরে ৬০-৭০টি সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে।
কিন্তু অভিযোগ ছিল, সেই ছবিগুলো দর্শক টানতে পারছে না। এবারের রোজার ঈদে বাদশাহ দ্য ডন, শিকারী, সম্রাট, রানা পাগলা দ্য মেন্টাল’সহ চারটি ব্যয়বহুল ছবি মুক্তি পায়। পরিচালকরা আশাবাদী হলেও দেশের চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা মূলধন তুলে আনার বিষয়েই শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু এবারের ঈদে সব আশঙ্কাকে মিথ্যে করে মুক্তি পাওয়া চারটি সিনেমাই ব্যবসাসফল ছবির তালিকায় নাম লিখিয়েছে। আর ৪টি ছবির মধ্যে তিনটিতেই অভিনয় করেছেন শাকিব খান। মেন্টাল, সম্রাট, শিকারী এ বছরের রোজার ঈদের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি ছিল। কোরবানি ঈদের দৃশ্যও একই।
চলতি বছর ছিল শাকিবের জন্য ‘টার্নিং ইয়ার’। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনায় যুক্ত হন। শিকারি শাকিবের অন্য বছরের আলোচিত ছবির রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। আলোচনা ও ব্যবসা- দুই দিক থেকেই ছবিটি এগিয়ে ছিল। ছবিতে শাকিব খান নিজেকে নতুনরূপে হাজির করে সবার নজর কেড়েছেন।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে শাকিব খানের বিকল্প নেই। এখন পর্যন্ত তৈরি হয়ে ওঠেনি। তাই পরিচালকরাও শাকিব-নির্ভর হয়ে উঠেছেন। কেউ ঝুঁকি নিতে চান না। কেনই বা ঝুঁকি নেবেন? এত টাকা লগ্নি করে সেটা যদি ফেরত না আসে তবে তো মুশকিল। এ ক্ষেত্রে শাকিব খান হচ্ছেন ত্রাতা। ছবিতে শাকিব খানকে চুক্তি করাতে পারলেই নিশ্চিন্ত প্রযোজক। তবে শাকিব খান কিংবা চলমান তারকাদের বাইরেও নিয়ে অমিতাভ রেজার ‘আয়নাবাজি’ এ বছরের সবচেয়ে আলোচিত ছবি। ব্যবসাসফলও। এ বছর সবচেয়ে বেশি আয় করা ছবি আয়নাবাজি। অমিতাভ রেজা কারিশমা দেখিয়েছেন প্রথম ছবিতেই।
তবে শাকিব খান একককভাবে একটা ছবি টেনে নিয়ে যেতে পারেন। পুরো বছরজুড়েই চলচ্চিত্রজুড়ে ছিলেন শাকিব খান। তবে রোজার আর ঈদ আর কোরবানি ঈদেই শাকিবের ছবি ছিল ব্যবসাসফল। প্রযোজককে তিনি দেখিয়েছেন লাভের মুখ। ঢাকার বাইরের মৃতপ্রায় সিনেমা হলগুলোতেও এবার দর্শকের জোয়ার লক্ষ করা গেছে। হুট করে চলচ্চিত্র জগতে আলোকচ্ছটা দেখা যাওয়ায় বাংলা চলচ্চিত্রের নির্মাতারা আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেন। শাকিবের রানা পাগলা দ্য মেন্টাল ১১৬টি হলে মুক্তি পায়। যৌথ প্রযোজনার ছবি শিকারী ৯৮ হলে মুক্তি পায় বলে দাবি করা হয়েছে। সম্রাট ৭৬টি হলে মুক্তি পায়। এ ছাড়া কলকাতার জিতের বাদশাহ দ্য ডন মুক্তি পায় ৪৬টি হলে। এটা ছিল রোজার ঈদের দুই দিন পরের হিসাব। পরে আরো পরিধি বেড়েছে।
কোরবানি ঈদে শাকিব খানের বসগিরি রোজার ঈদের মতোই ব্যবসা করে। তবে বছরের শুরুতে ঢালিউডের জনপ্রিয় জুটি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসকে দর্শকরা বিভিন্ন ছবিতে পেয়েছে এ বছর। এর মধ্যে উত্তম আকাশ পরিচালিত ‘রাজা ৪২০’ মোটামুটি ভালোই ব্যবসা করেছে। কমেডি ধাঁচের ছবিটিতে শাকিবের অভিনয় দেখে তার নিয়মিত দর্শকরা যে মজা পেয়েছেন তা বলাবাহুল্য। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, সবমিলিয়ে শাকিব রাজত্বে বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর উপস্থিতি ছিল না। আয়নাবাজি দিয়ে আলোচনা এসেছিলেন চঞ্চল চৌধুরী। কিন্তু ওই একটাই ছবি। আর একাধিক ব্যবসাসফল ছবির অভিনেতা শাকিব খান ছিলেন এ বছর একককভাবে হিট।

Be the first to comment on "তবুও শাকিব খানই ছিলেন এ বছর সুপারহিট!"