শিরোনাম

ব্রাজিলে কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ৫৬

নিউজ ডেস্ক : ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলে অ্যামাজন এলাকার একটি কারাগারে ভয়াবহ এক দাঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর সেখানে এখন চলছে তল্লাশি অভিযান। কর্মকর্তারা বলছেন, ম্যানাউস শহরের এই কারাগারটিতে বন্দীদের দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে দাঙ্গায় অন্তত ৫৬ জন নিহত হয়েছে। খবর বিবিসির।

তল্লাশিতে কারাগারের ভেতরে অনেক মৃতদেহই পাওয়া গেছে, যেগুলোতে রয়েছে নির্যাতনের চিহ্ন।

কার্যত নতুন বছরের প্রথম দিনটিতে এমন সময় এই দাঙ্গার সূত্রপাত হয়, যখন কারাগারটিতে বন্দীদের সঙ্গে আত্মীয়-স্বজনের সাক্ষাতের জন্য নির্ধারিত সময় চলছিল।

স্থানীয় টেলিভিশনের খবরে দেখা গেছে, কারাগারের বাইরে বহু মহিলা এবং বন্দীদের পরিবারের সদস্যদের ক্রন্দনরত ছবি। উত্তরাঞ্চলীয় ম্যানাউস শহরে এটাই বৃহত্তম কারাগার।

এখানে যে দাঙ্গা হয়েছে তাতে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী অপরাধী গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে ধারণা আছে, বলা হচ্ছে, এরা সাও পাওলো ও রিও ডি জেনেরিও ভিত্তিক অপরাধী গোষ্ঠী। দাঙ্গা চলাকালে কারাগারের ভেতরে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

এগুলো গোপনে কারাগারের ভেতরে পাচার করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অ্যামাজোনাস অঙ্গরাজ্যের নিরাপত্তা প্রধান সের্হিও ফন্টেস বলছেন, স্পষ্টতই এই দাঙ্গাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

দাঙ্গা চলাকালে বহু কয়েদী পালিয়ে গেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাদের সংখ্যা কত হতে পারে তা এখনো স্পষ্ট না।

আনিসিও জোবিম নামের এই কারাগারটিতে ছিল ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত কয়েদী। দেশটির বেশিরভাগ কারাগারেরই অবস্থা এমনই।

কার্যত শক্তিশালী অপরাধী গোষ্ঠী ও মাদক চক্রগুলোই এই কারাগারগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ফলে সেখানে দাঙ্গা অতি সাধারণ একটি ব্যাপার।

১৯৯২ সালে এরকমই একটি দাঙ্গার পর একটি কারাগার দখল করে নিয়েছিল কয়েদীরা। ওই দাঙ্গায় ১১১ জন নিহত হয়।

ম্যানাউসের দাঙ্গা শুরুর চব্বিশ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি একরকম নিয়ন্ত্রণেই আনতে পেরেছে কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করছে, ব্রাজিলের ভেঙ্গে পড়া কারাগার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পুনর্গঠনের প্রয়োজন এখনই।

basic-bank

Be the first to comment on "ব্রাজিলে কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ৫৬"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*